পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আঁচ এ বার আরও উদ্বেগজনক। ওমানের উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় মৃত্যু হল এক ভারতীয় নাবিকের। জাহাজটিতে মোট ১৪ জন ভারতীয় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে এক জনের। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাল ভারত। একই সঙ্গে চলতে থাকা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।

মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের (এমইএ) বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় ওমানের লিমাহ এলাকার কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী এমএসভি আল জুসুফি নামে বাণিজ্যিক জাহাজটিতে হামলা হয়। ঘটনায় এক ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ১৩ জনকে উদ্ধার করেছে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। মৃত নাবিকের নাম গন্ধর নাহিম আজিজ। তিনি গুজরাতের বাসিন্দা।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, মাসকটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ওমানের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের পাশাপাশি মৃতের দেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সমাজমাধ্যমে জানান, ২ নভেম্বর ওমানের উপকূলের কাছে চলার সময় অজ্ঞাতপরিচয় আকাশপথে আসা একটি বস্তু আঘাত হানে জাহাজটিতে। তার পরেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
এই ঘটনার পরেই পশ্চিম এশিয়ায় বাণিজ্যিক জাহাজ এবং অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্য নিশ্চিত করার কথাও বলেছে বিদেশ মন্ত্রক।
এর আগে জি২০ বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য ছিল, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির উপর। জ্বালানি, খাদ্য এবং সারের সরবরাহ ও দামেও তার প্রভাব পড়ছে। এবার ওমানের উপকূলে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বাড়ল।