প্রশান্ত মাল, নিজস্ব সংবাদদাতা: হোটেলের রান্নাঘরে থরে থরে সাজানো বাসি, পুরনো ও পচা খাবার। কোথাও চিকেনের গায়ে ছত্রাক, কোথাও পনিরে ফাঙ্গাসের আস্তরণ। শুধু তাই নয়, মানুষের খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজের মধ্যেই রাখা ছিল কুকুরের খাবার! দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় একাধিক হোটেলে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, দুর্গাপুর নগর নিগম ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সামনে এল এমনই চাঞ্চল্যকর ছবি।

অভিযান চলাকালীন হোটেলগুলির রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের জায়গায় তল্লাশি চালাতেই একের পর এক অনিয়ম সামনে আসে। উদ্ধার হয় ফাঙ্গাস ধরা চিকেন, ছত্রাকযুক্ত পনির, বহুদিনের পুরনো মসলা, বাসি ভাত, বাসি তরকারি, চানা মসলা-সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার ও খাদ্যসামগ্রী। এমন অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রাহকদের পরিবেশন করা হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযোগ, হোটেলগুলিতে দীর্ঘদিনের পুরনো খাবার মজুত থাকলেও সেগুলির গায়ে কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বা প্রয়োজনীয় ট্যাগ লাগানো ছিল না। কোন খাবার কবে তৈরি হয়েছে, কতদিন ধরে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট হিসাবও ছিল না। ফলে সেই খাবার গ্রাহকদের পরিবেশন করা হলে শিশু থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, মানুষের খাবারের সঙ্গে একই ফ্রিজে রাখা হয়েছিল কুকুরের খাবারও। রান্নাঘরের এমন অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে হোটেল কর্তৃপক্ষকে কড়া ধমক দেন আধিকারিকরা। খাবার সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি কুকুরের খাবার মানুষের খাবার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা জায়গায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।