ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের পাশে দাঁড়াল কেন্দ্র। মঙ্গলবার অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

অমিত শাহ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ শুরু করেছে। যে কোনও পরিস্থিতিতে অন্ধ্রপ্রদেশের মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কর্নাটক সরকারও। মঙ্গলবার কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার জানিয়েছেন, ত্রাণ ও পুনরুদ্ধারের কাজে সাহায্য করতে তাঁদের রাজ্যের দল অন্ধ্রপ্রদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এই কঠিন সময়ে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশে থাকার এবং সবরকম সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
কর্নাটকের এই সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। ডি কে শিবকুমার এবং কর্নাটকের মানুষের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিপদের সময় তাঁদের এই সাহায্য মনে রাখবে অন্ধ্রপ্রদেশ। অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশ আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা কে নাগরত্না জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টে থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলের ওঙ্গোলের কাছে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। গত ৬ ঘণ্টায় ৮ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়েছে ঝড়টি। উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। কখনও কখনও সেই গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারেও পৌঁছয়।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপটলা, পালানাডু, মার্কাপুরম এবং প্রকাশম জেলার একাধিক এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। মৎস্যজীবীদের আগামী ৪ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে