সুস্মিত মজুমদার,নিজস্ব সংবাদদাতা: একটা জাহাজে করে বিদেশ থেকে এসেছিল ইটালিয়ান মার্বেল—কথা ছিল, সেই মার্বেল দিয়ে তৈরি হবে এঙ্গাস জুট মিলের চিমনি। কিন্তু সাহেব ইঞ্জিনিয়ার সেই মার্বেল বাতিল করে দিলেন! আর সেই বাতিল হয়ে যাওয়া মার্বেলই শেষ পর্যন্ত জায়গা পেল এক শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাদালানে। কীভাবে? সেই গল্পই রয়েছে হুগলির চাঁপদানির শরৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে।

হুগলি জেলার চাঁপদানির মুখার্জি গলিতে খারজি পরিবারের দুটি বাড়িতে আজও অনুষ্ঠিত হয় বনেদি দুর্গাপুজো। আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম শরৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজোয়। বাড়িতে ঢুকতেই চোখ আটকে যায় অপূর্ব সুন্দর ঠাকুরদালানের দিকে। লাল-হলুদের কারুকার্যে সাজানো এই শতাব্দীপ্রাচীন ঠাকুরদালান আজও যেন ধরে রেখেছে পুরনো দিনের বনেদিয়ানা ও ঐতিহ্য। আর এই ঠাকুরদালানের শ্বেতপাথর ঘিরেই রয়েছে এক অসাধারণ গল্প। শোনা যায়, বিদেশ থেকে জাহাজে করে ইটালিয়ান মার্বেল এসেছিল এঙ্গাস জুট মিলের চিমনি তৈরির জন্য। কিন্তু কোনও এক কারণে সাহেব ইঞ্জিনিয়ার সেই মার্বেল চিমনির কাজে ব্যবহার করার জন্য বাতিল করে দেন। আর সেই বাতিল হয়ে যাওয়া বিদেশি মার্বেলই পরবর্তীকালে ব্যবহার করা হয় এই অসাধারণ ঠাকুরদালান তৈরিতে।
সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। এখন আর এই ঠাকুরদালানে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হয় না। কুমোরটুলি থেকে আসে বাড়ির প্রতিমা। তবে পুজোর কয়েকটা দিন এলেই আবার গমগম করে ওঠে গোটা বাড়ি। ঠাকুরদালানের প্রতিটি খিলান, স্তম্ভের কারুকার্য আর পুরনো স্থাপত্যের সৌন্দর্য সব মিলিয়ে এই বাড়ি যেন জীবন্ত ইতিহাসের এক অনন্য দলিল। শুধু দুর্গাপুজো নয়, এই বাড়ির প্রতিটি ইট-পাথরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একেকটি গল্প। আর সেই গল্পেরই নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে শরৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির এই অপূর্ব ঠাকুরদালান।