ভোটে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়াল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন বিরোধী নেতারা। নেতৃত্বে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মিছিলে যোগ দেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব এবং উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিরোধীরা।

মিছিল ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসায় দিল্লি পুলিশ। তবে আইনি পথেই নিজেদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাজীব শুক্লা। তাঁর কথায়, ‘‘প্রধান বিচারপতি যা বলেছেন, আমরা সেই অনুযায়ী এগোব এবং আবেদন জমা দেব। আদালতের উপর আমাদের আস্থা রয়েছে।’’
অন্য দিকে, বিক্ষোভের জেরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করছে সরকার। ইমরানের প্রশ্ন, বিরোধী দলনেতা যখন ৩০০ জন সাংসদকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চান, তখন তাকে বিশৃঙ্খলা বলা হবে কেন? যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও ‘ভয় ও কাপুরুষতা’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
ছত্তীসগঢ়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বঘেলের দাবি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। তাঁর অভিযোগ, ভোটে কারচুপির মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতি— গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একের পর এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দরজায় কড়া নেড়েছেন বিরোধীরা। এ বার তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়া।
দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দেবেন্দ্র যাদবের দাবি, শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ এই প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব বিরোধীরা। তবে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ এখনও বিরোধীদের দাবি হিসাবেই রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে তাঁদের আবেদনের পর এই রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন নজর সেদিকেই।