এসআইআর পর এবার এসএসআর। এই এসএসআরটা কী। এবার কোন নতুন সমীক্ষার কথা বলছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার ঝড়। বিরোধীদের অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এহেন পরিস্থিতিতে কমিশন ঘোষণা করল, ১৭টি রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হবে স্পেশাল সামারি রিভিশন। নতুন এই সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য, নতুন ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত করা। বাদ পড়া ভোটারদেরও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। কীভাবে এই এসএসআরে নাম নথিভুক্ত করবেন নতুন ভোটার থেক বাদ পড়া ভোটাররা।

গত বৃহস্পতিবার কমিশনের তরফে নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশিকাটি হল এসএসআর সংক্রান্ত। জানানো হয়, যেসব ভোটাররা বাদ পড়েছেন অথবা এই প্রথমবার ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাঁরা এই এসএসআরের আওতায় পড়বেন। দেশজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ২০ রাজ্যে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। সেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় গলদেরও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, ফর্ম সিক্সের নিয়ম বদলের অভিযোগও উঠেছে। সে সব অভিযোগকে সামনে রেখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হচ্ছে। এই বিতর্কের মধ্যেই কমিশন বাদ পড়া ভোটারদের নাম তুলতে উদ্যোগী কমিশন। কীভাবে সম্পন্ন হবে এই এসএসআর পক্রিয়া। কীভাবেই বা নাম তুলবেন তাতে।
বলা হয়েছে, বিএলএরা দিনে সর্বোচ্চ ১০টি করে ফর্ম জমা দিতে পারবেন বিএলওর কাছে। এছাড়া কোনও যোগ্য কিন্তু বাদ পড়া ভোটার পাওয়া গেলে বিএলওরাই তাঁদের খুঁজে বের করে ফর্ম সিক্স পূরণ করাবেন। বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তোলার যোগ্য, তাঁরা এই রিভিশনের মাধ্যমে ভোটাধিকার পেতে পারেন। খসড়া তালিকা প্রকাশিত হবে ১২ নভেম্বর। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে ৪ জানুয়ারি।বাংলা, বিহার-সহ যে রাজ্যগুলিতে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেই রাজ্যগুলিতে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য অভিযান শুরু হবে। যে রাজ্যগুলিতে এখনও এসআইআর চলছে, সেখানেও এই নতুন সমীক্ষা হবে।

এসএসআর কিন্তু এসআইআরের মতো প্রক্রিয়া নয়। এটি রুটিন প্রক্রিয়া, প্রতি বছরই হয়। জানুয়ারি মাসে একটি সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। তবে এসআইআরের আবহে এ বছর এই পক্রিয়ার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এসএসআরের জন্য আধার কার্ড বাধ্যতামূলক নয়। মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে আবেদন বা আপত্তি জানানো যাবে। তবে কোনও এক জন পাঁচটি বা তার বেশি আপত্তি জানালে নির্বাচনী আধিকারিক তা যাচাই করে দেখবেন। এ ছাড়া, একটি পরিবারের সকল সদস্যকে ভোটার তালিকায় একসঙ্গে রাখতে বলেছে কমিশন।
উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া, মণিপুর, পঞ্জাব ছাড়াও বিহার, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগঢ়, গুজরাত, কেরল, অসম, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষাদ্বীপে হলে এসএসআর। নতুন ভোটারদের জন্য আগাম আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির পাশাপাশি ওই বছরের ১ এপ্রিল, ১ জুলাই এবং ১ অক্টোবরের জন্যও আগাম আবেদন গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ ২০২৭ সালের পরেও যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাঁরাও আগেভাগে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ট্রাইবুনালে যাঁদের নাম ঝুলে রয়েছে তাঁদের কী হবে। এ রাজ্যে তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় যে ব্যক্তিদের ভোটার-যোগ্যতা বিচারাধীন, যোগ্যতা প্রমাণিত হলে তাঁদের নাম নতুন তালিকায় থাকবে কি না, তা অবশ্য বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট নয়। তবে, কমিশনের একাংশের বক্তব্য, যোগ্যতা প্রমাণ হলে এমনিতেই তাঁরা তালিকাভুক্ত হবেন। ফলে নতুন ভোটার তালিকা তৈরি হলে সেখানে সেই নামগুলি থাকা স্বাভাবিক। অন্য দিকে, এ বছরের শেষেই কলকাতা এবং হাওড়া-সহ কয়েকটি পুরসভার ভোট রয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, সেই ভোট হবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের পরে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ধরেই। যা দিয়ে ভোট হয়েছিল গত বিধানসভারও। অতএব আরও একবার স্পষ্ট করে যদি বলি এই এসএসআর প্রক্রিয়ায় কী কী কাজ হবে
এসএসআরে কী হবে
১.যোগ্য নতুন ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।
২.ভোটার তালিকায় নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্যের ভুল সংশোধন করা।
৩.মৃত বা আইনত অযোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন ও যাচাই করা।
৪.ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা কোনও তথ্য নিয়ে দাবি ও আপত্তি গ্রহণ করা।
৫.প্রয়োজনীয় যাচাই ও নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা
ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বুথ লেভেল অফিসাররা অর্থাৎ বিএলওরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। ভোটারদের তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় আবেদন সংক্রান্ত সহায়তা এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাজ তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে থাকতে পারে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলে প্রত্যেক ভোটারের উচিত নিজের নাম ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে নেওয়া। তালিকায় নাম রয়েছে কি না, পরীক্ষা করুন। নাম বা ঠিকানায় ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য আবেদন করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১২ নভেম্বর এই দিন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা জানানো হয়েছ।