দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ ঘিরে শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তেজনার আশঙ্কা। নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে বিকেল ৫টায় জাতীয় পতাকা হাতে জমায়েতের ডাক দিয়েছে সিজেপি। আম আদমি পার্টিও (আপ) দলের কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষকে ওই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ৬ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারি বাড়াতে বসানো হয়েছে অডিয়ো-ভিডিয়ো রেকর্ডিংয়ের সুবিধাযুক্ত ৩০ থেকে ৩৫টি অতিরিক্ত ক্যামেরা।

বিক্ষোভের আগে কনট প্লেস এবং সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে অশান্তি ও হিংসার আশঙ্কার খবর পাওয়ার পরেই নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে যোগ না দেওয়ার পাশাপাশি শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
জাতীয় পতাকা প্রদর্শন এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের তরফে দিল্লি হাই কোর্টে জানানো হয়েছে, উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করা গেলে এবং নিয়ম মেনে চলা হলে ১১ জনের একটি দলকে জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
এ দিকে, উৎসবের মরসুমে বিক্ষোভের জেরে ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কনট প্লেস ও আশপাশের বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই সময়ে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। নিরাপত্তা বজায় রেখেও যাতে স্বাভাবিক ব্যবসা ব্যাহত না হয়, প্রশাসনের কাছে সেই আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
শুক্রবার বিকেল ৩টে থেকে কনট প্লেস ও নয়াদিল্লির একাধিক রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ট্র্যাফিক পুলিশ। সংসদ মার্গ, বাবা খড়ক সিং মার্গ, বারাখাম্বা রোড, জনপথ, তিলক মার্গ-সহ একাধিক রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ বা ঘুরপথে চলাচলের ব্যবস্থা হতে পারে। যাত্রীদের সম্ভব হলে গণপরিবহণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি রক্ষা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।