মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা: এসআইআর সার্ভেকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ। রাতে বিজেপি নেতার বাড়ি ভাঙচুর, অভিযোগের তির তৃণমূল জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে। এসআইআর সার্ভেকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অশান্তি বাঁকুড়ার পাত্রসায়রে। অশান্তির সূত্রপাত বাঁকুড়া জেলার পাত্রসায়র ব্লকের ২১৩ নম্বর বুথ অর্থাৎ হামিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনগর বুথ।

বুধবার বিএলও সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি ফর্ম দিতে যান। সেখানে তৃণমূল ও বিজেপির দুই দলের বিএলএ-২ উপস্থিত ছিলেন। এখানে তৃণমূলের বিএলএ-২ বিজেপির বিএলএ-২ নারায়ণ বাগদিকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। তা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দিনভর চাপানোতর চলে। রাতের বেলা সোনামুখী মন্ডল-৪ এর যুব মোর্চার সভাপতি অনুপ ঘোষ, তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রামনগরে রাতে যাত্রা দেখতে যান। অভিযোগ সেখানে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সহ তাদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক মারপিট হয়। আহত হন দুপক্ষের বেশ কয়েকজন। অশান্তির খবর পেয়ে সোনামুখী বিজেপি মন্ডল চারের সভাপতি অনুপ ঘোষ সেখানে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুব্রত দত্ত তার দলবল নিয়ে পাত্রসায়র থানার হাট কৃষ্ণনগরে বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি স্বরূপ ঘোষের বাড়িতে চড়াও হয়। সেখানে স্বরূপ ঘোষকে না পেয়ে তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় তৃণমূল কংগ্রেস। মোটরবাইক, বাথরুম, বাড়ি, ফ্রিজ সমস্তকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি ফোন করে যুব মোর্চার সভাপতিকে হুমকি দেয় তৃণমূলের জেলা সভাপতি। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে পাত্রসায়র থানার পুলিশের পক্ষ থেকে।
সোনামুখী মন্ডল ৪ বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি স্বরূপ ঘোষ জানাচ্ছেন, যাত্রা দেখতে গিয়ে স্থানীয় ৩ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর সঙ্গে বচসা হয়। অভিযোগ তাঁর উপর চড়াও হয়। এখানেই শেষ নয়, ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাল্টা বিজেপিকেই দুষেছে তারা।