মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ঝালমুড়ি বনাম ভেলপুরি—নির্বাচনী মঞ্চে খাবার নিয়েই জোর তরজা। শুক্রবার বউবাজারের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাটি ছিল নাটক।

সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আগেই দোকানে সিসিটিভি ও ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। নিরাপত্তার জন্য বাড়ি থেকে ঝালমুড়ি বানিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দোকানদারকে ১০ টাকা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের নামে এই ধরনের প্রচার আসলে ভোটের কৌশল ছাড়া কিছু নয়।”
বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূল সুপ্রিমোর মন্তব্য, “ওরা বলছে জিতলে ঝালমুড়ি খাবে। আমি বলছি, দিল্লি থেকে আপনাদের জন্য ভোলপুরি এনে দেব।”
একইসঙ্গে ‘চা-ওয়ালা’ ইমেজের প্রসঙ্গ টেনে নেত্রী বলেন, “আগে চা, এখন ঝালমুড়ি—সবই ভোটের জন্য সাজানো প্রচার।”
খাবারের প্রসঙ্গ টেনে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিরও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমি ধোকলা খাই, ধোসা খাই, লিট্টি খাই, ছাতু খাই। ঈদের সময় সেমাই খাই, হালুয়াও খাই। আমাকে ধর্ম শেখাতে আসবেন না।”
এদিনই দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে বিজেপির আত্মবিশ্বাস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “ওরা এত নিশ্চিত কেন? ইভিএম কি আগে থেকেই সেট করা?” যদিও নির্বাচন কমিশন বারবার ইভিএমের নিরপেক্ষতার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। তবুও এই মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে শাসকদল।
উল্লেখ্য, এর আগেও কৃষ্ণনগরের সভা থেকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি দাবি করেন, তাঁর ঝালমুড়ি খাওয়াই তৃণমূলকে ‘ঝাঁকুনি’ দিয়েছে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ইস্যু, ‘জঙ্গলরাজ’-এর অভিযোগ এবং সিএএ কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন তিনি।
প্রথম দফার ভোট ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। এবার নজর দ্বিতীয় দফার দিকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে —ঝালমুড়ি হোক বা ভেলপুরি— এধরণের জিনিস এখন শুধুমাত্র মুখরোচক খাবার হিসেবেই সীমাবদ্ধ নেই, বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়েরই অংশ হয়ে উঠেছে।