মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে বিতর্কের আবহে ভোটকর্মীদের আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে একাধিক ভোটকর্মী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ করবে না।

আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, যাঁরা নির্বাচনী দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও অনেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। আমরা প্রতিদিন আমাদের নির্দেশ বদলাতে পারি না।” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনও নির্দেশ দিতে অনিচ্ছুক শীর্ষ আদালত।
তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, চলতি বছরে ভোট দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নের চাইতে ভোটার তালিকায় নাম থাকার অধিকারটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিষয়টি আদালত খতিয়ে দেখবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। ফলে আইনি লড়াই পুরোপুরি থেমে যাচ্ছে না বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। সংশোধনের আগে যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষেরও বেশি। অর্থাৎ, তালিকা থেকে ৬১ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে বা পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম যাচাই প্রক্রিয়ায় মুছে ফেলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫২টি কেন্দ্রে গড়ে ৯১.৮৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা সাম্প্রতিক কালে নজিরবিহীন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। যদিও বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ এ বার পুরুষদের ছাপিয়ে গিয়েছে। মহিলাদের ভোটদানের হার ৯২.৬৯ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৯০.৯২ শতাংশ। পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের মধ্যেও ৫৬.৭৯ শতাংশ উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ । মোট দুই দফার ভোট গণনা হবে ৪ মে। ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের আবহেই পরবর্তী পর্যায়ের ভোট কেমন হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।