বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দিয়েছে রাজ্য মৎস্য দফতর। গত ২ জুলাই শঙ্করপুর থেকে মাছ ধরতে যাওয়া জয় মা কালীর ট্রলার সহ মৎস্যজীবী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সেই সঙ্গে মৎস্যজীবীদের দেহ উদ্ধারের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন ।

সাধারণত মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলার গুলির উপরে নজরদারি ও তাদের অবস্থান জানার জন্য ওয়ারলেস এবং জিপিএস সিস্টেমের উপর নির্ভর করতে হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্থ শঙ্করপুরের ওই ট্রলারটিতে এই ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও গত ৬ জুলাই থেকে ট্রলারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বাঘের চরের কাছে। উল্টানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ট্রলারটি। এখনো পর্যন্ত ১১ জন মৎস্যজীবীর পচা গলা দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেহ শনাক্তকরণের জন্য নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের লোকজনের রক্ত সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এখনও পর্যন্ত চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই কারণে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির টু ওয়ে এমএসএস ট্রান্সপন্ডার মেশিন বসানোর উপরে জোর দিয়েছে মৎস্য দফতর । ট্রান্সপন্ডার হল ওয়ারলেস ট্র্যাকিং ডিভাইস বা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ট্রলারে বসালে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। মৎস্যজীবীরাও যেমন সরাসরি কথা বলতে পারবেন, তেমনই অন্যান্য তথ্য আদান-প্রদান অনেক সহজে করা যাবে । ট্রান্সপন্ডার মেশিনের মাধ্যমে সমুদ্রের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নজরদারি করা সম্ভব। এই যন্ত্রের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলির গতিবিধির উপরে নজরদারির পাশাপাশি সমুদ্রের কোন অংশে বেশি বা কম মাছ আছে কিংবা কচ্ছপের অবস্থান আছে । সেই তথ্য জানতে পারবেন মৎস্যজীবীরা। মৎস্য দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দিঘা মোহনা উপকূলে দেড় হাজারের বেশি লঞ্চ ও ট্রলার রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত শঙ্করপুর ও দিঘার ২০০ বেশি ট্রলারে এই মেশিন বসানো হয়েছে। কাঁথি মৎস্য দফতরের সহ মৎস্য অধিকর্তা সামুদ্রিক সুমন সাহা আরেকদিকে কাকদ্বীপ দিঘা মৎস্য সমিতির সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, প্রতিটি ডলারের এই অত্যাধুনিক ডিভাইস বসানো থাকবে। আর মৎস্যজীবীদের মোবাইলে বিশেষ অ্যাপ ইন্সটল করা থাকবে । স্যাটেলাইট প্রযুক্তির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এই ডিভাইস কাজ করবে। নিরাপত্তার কারণে মৎস্যজীবীদের ট্রলারগুলিতে এই মেশিন বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।