New Delhi, Jul 22 (ANI): Union Defence Minister Rajnath Singh at the Parliament Premises during the Monsoon Session, in New Delhi on Wednesday. (ANI Photo/Rahul Singh)
নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস, ছাত্র আন্দোলন এবং তা ঘিরে সংসদে টানা অচলাবস্থার আবহে বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ছাত্র-যুবকদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিরোধী নেতারা পরিকল্পিতভাবে ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তাঁর বার্তা, গণতন্ত্রে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সঠিক জায়গা সংসদ, রাজপথ নয়।

দিল্লিতে চলতে থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলন এবং বিরোধীদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ বলেন, ‘‘দেশের ছাত্র-যুবদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার ছাত্রদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং তাঁদের কল্যাণে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, ছাত্রদের প্রতিটি অভিযোগ শোনা এবং তার যথাযথ সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতের সচেতন, পরিণত ও দায়িত্বশীল যুবসমাজ এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচেষ্টা বুঝতে পারবে এবং উন্নয়ন ও দেশগঠনের পথই বেছে নেবে।’’
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে একহাত নিয়ে রাজনাথ আরও বলেন, কিছু বিরোধী নেতা ইচ্ছাকৃত ভাবে ‘কৃত্রিম ক্ষোভ’ তৈরি করছেন। তাঁর মতে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে বিশেষ করে ছাত্র-যুবদের ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা চলছে। তবে সরকার যুবসমাজের অনুভূতি ও উদ্বেগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সংবেদনশীল এবং চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনেই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অর্থবহ আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত বলেও দাবি করেন তিনি।
সংসদের পরিবর্তে রাস্তায় আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘গণতন্ত্রে বিতর্ক ও মতপ্রকাশের সর্বোচ্চ মঞ্চ সংসদ। বিরোধীরা সেখানে স্বাধীনভাবে নিজেদের বক্তব্য রাখতে পারেন। যদি সত্যিই তাঁরা বিষয়গুলি নিয়ে আন্তরিক হন, তা হলে সংসদ সচল রেখে আলোচনার মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিত।’’
এ দিকে, ছাত্র আন্দোলন, প্রশ্নফাঁস এবং বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে বুধবারও সংসদের উভয় কক্ষেই উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। কালো পোশাক পরে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদেরা। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ একাধিক বিরোধী নেতা।
হইচইয়ের জেরে রাজ্যসভার অধিবেশন দুপুর ৩টা পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়। অন্যদিকে লোকসভার কার্যক্রমও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়। প্রশ্নফাঁস, ছাত্র আন্দোলন এবং সংসদে অচলাবস্থা— এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও বিরোধীদের সংঘাত যে আরও তীব্র হচ্ছে, বুধবারের ঘটনাপ্রবাহে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।