New Delhi, Jul 29 (ANI): Lok Sabha LoP Rahul Gandhi speaks in Lok Sabha during the Monsoon Session of Parliament, in New Delhi on Wednesday. (Sansad TV/ANI Video Grab)
নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে তপ্ত সংসদ। বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্রের শিক্ষা নীতি এবং আরএসএসকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর হাতে নয়, আরএসএসের হাতে। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে ভাবার এবং প্রশ্ন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল বলেন, “আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত নিষ্ঠুর। সবকিছু বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যবস্থার আত্মাকেই দখল করে নিয়েছে আরএসএস।”
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ হলেও তা হবে শুধুই প্রতীকী। কারণ, তিনি কোনও দিনই প্রকৃত অর্থে শিক্ষা মন্ত্রক পরিচালনা করেননি। শিক্ষা মন্ত্রক চালায় আরএসএস। মন্ত্রীর দফতরে বসে থাকা এক ওএসডি-র মাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়।”
রাহুলের দাবি, দেশের ছাত্রছাত্রীরা শুধুমাত্র প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য ক্ষুব্ধ নয়। তারা ক্ষুব্ধ কারণ তাদের নিজের আগ্রহ অনুসরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না, স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশ বা প্রশ্ন করার সুযোগও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “ছাত্রদের এমন একটি ইতিহাস পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আরএসএসের কল্পনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। ধর্মেন্দ্র প্রধান কেবল একটি প্রতীক। প্রকৃত প্রতিপক্ষ আরএসএস, যারা চায় সবাই অন্ধ অনুসারী হয়ে থাকুক।”

এর আগে একই বিতর্কে রাহুল নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের প্রশংসা করে বলেন, ওই আন্দোলন কোনও হিংসা বা ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দেশের যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের শান্তিপূর্ণ প্রকাশ। তিনি বিজেপি-সহ সব রাজনৈতিক দলকে ছাত্রদের কণ্ঠস্বরকে সম্মান জানানোর আহ্বানও জানান।
তবে রাহুলের বক্তব্য ঘিরে লোকসভায় তীব্র হইচই শুরু হয়। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তাঁর বক্তৃতায় ব্যবহৃত একটি শব্দবন্ধের বিরোধিতা করেন। শাসকদলের সদস্যদের আপত্তির পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ওই মন্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর কিছু সময়ের জন্য অধিবেশনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নিট প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে রাহুলের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যে আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে, তা স্পষ্ট।