চিনের তিনটি সংস্থার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করল আমেরিকা। উইঘুর মুসলিমদের জোর করে শ্রমিকের কাজ করানোর অভিযোগে ওই তিনটি সংস্থার পণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন সরকার। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস (WUC)। তাদের মতে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
WUC-র প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর এই নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করে আমেরিকা। চিনের তিনটি সংস্থা—BGI Genomics Co Ltd, MGI Tech Co Ltd এবং Shenzhen BGI Technology Co Ltd-কে নিষিদ্ধ সংস্থার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এই সংস্থাগুলি BGI Group নামেও পরিচিত। আমেরিকার স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।WUC আরও জানিয়েছে, কয়েক মাস আগেই ৩১ জুলাই চিনের আরও ৪৩টি সংস্থাকে এই তালিকায় যুক্ত করেছিল আমেরিকা। একসঙ্গে এতগুলি সংস্থাকে তালিকাভুক্ত করার ঘটনা ছিল নজিরবিহীন।
WUC-র অভিযোগ, পূর্ব তুর্কিস্তানে উইঘুরদের জোর করে শ্রমিকের কাজ করানোর ক্ষেত্রে এই সংস্থাগুলির ভূমিকা রয়েছে। তাদের দাবি, BGI Group এবং BGI Genomics চিন সরকারের হয়ে উইঘুরদের জোর করে কাজে লাগানোর জন্য তাঁদের চিহ্নিত করা, নিয়োগ করা এবং অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কাজে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে, MGI Tech Co Ltd ওই অঞ্চলে জিন পরীক্ষা করার জন্য চিন সরকারকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত সাহায্য দিয়েছে বলে অভিযোগ।
আমেরিকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন WUC-র সভাপতি তুর্গুনজান আলাউদুন। তাঁর কথায়, সংস্থাগুলির দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি বলেন, উইঘুরদের উপর অত্যাচারের সঙ্গে যেসব সংস্থার যোগ রয়েছে, তাদের কোনও শাস্তি ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পণ্য বিক্রি বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। WUC-র বক্তব্য, আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও সমস্যার পুরো সমাধান নয়। তাদের দাবি, বিশ্বজুড়ে এখনও হাজার হাজার সংস্থা উইঘুরদের উপর অত্যাচারের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, পোশাক এবং বিরল খনিজ পদার্থের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির উপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও আমেরিকার মতো পদক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে WUC। উইঘুরদের জোর করে শ্রমিকের কাজ করানোর সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছে তারা। চিন সফরে যাওয়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির প্রতিনিধিদলের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে WUC। গত ২৯ অক্টোবর তিন দিনের চিন সফর শেষ করে ওই প্রতিনিধিদল। কিন্তু সফর শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে উইঘুরদের জোর করে শ্রমিকের কাজ করানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। অথচ চিনের ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্রে এই বিষয়টির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
WUC-র দাবি, চিনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে উইঘুরদের উপর অত্যাচারের বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের। এ বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। সবশেষে আমেরিকার কাছে নিষিদ্ধ সংস্থার তালিকা আরও বাড়ানোর এবং আমদানি নিষেধাজ্ঞা ঠিকভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে WUC। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ অন্যান্য দেশকেও উইঘুরদের জোর করে শ্রমিকের কাজ করানোর সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও, পূর্ব তুর্কিস্তানে রাষ্ট্রীয় মদতে জোর করে শ্রমিকের কাজ করানোর প্রথা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে ওই অঞ্চল থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে WUC। তাদের সতর্কবার্তা, এই পরিস্থিতিতে সেখানে ব্যবসা চালিয়ে গেলে সংস্থাগুলিও জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়তে পারে।