কন্নড় রাজ্যোৎসব উপলক্ষে কর্নাটকের মানুষকে শুভেচ্ছা জানাল দক্ষিণ ভারতের ইজরায়েলি কনস্যুলেট। রাজ্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা এবং মানুষের আন্তরিকতার প্রশংসা করেছে তারা।

আরপ্লাস নিউজ, ডিজিটাল ডেস্ক
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তার মাধ্যমে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কর্নাটকের সুন্দর সংস্কৃতি, প্রাণবন্ত ঐতিহ্য, মিষ্টি ভাষা এবং মানুষের আন্তরিকতা সকলকে আপন করে নেয়। কন্নড় রাজ্যোৎসব উপলক্ষে রাজ্যের সমস্ত মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইজরায়েলি কনস্যুলেট। উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১ নভেম্বর ভারতের একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হয়। ১৯৫৬ সালের এই দিনেই কর্নাটক, কেরল এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যের গঠন হয়েছিল। পরে ২০০০ সালে মধ্যপ্রদেশ ভেঙে ছত্তিশগড় আলাদা রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অন্যদিকে, ১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বর ফরাসি শাসন থেকে পুদুচেরির প্রশাসনিক ক্ষমতা ভারতের হাতে আসে। সেই কারণে এই দিনটি পুদুচেরিতে মুক্তি দিবস হিসেবেও পালিত হয়।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, নতুন উদ্ভাবন, কৃষি এবং জল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করছে। বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ইজরায়েলি কনস্যুলেট দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে এই সম্পর্ক আরও মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে গত অগস্টে কর্নাটক সরকার এবং বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ইজরায়েলি কনস্যুলেট যৌথভাবে ‘কর্নাটক-ইজরায়েল সাইবার ডায়ালগ ২০২৬’-এর আয়োজন করেছিল। সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোই ছিল এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
‘স্ট্রংগার টুগেদার, সিকিওর টুমরো’ (একসঙ্গে আরও শক্তিশালী, আগামীকাল আরও সুরক্ষিত)—এই ভাবনাকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কর্নাটকের গ্লোবাল ইনোভেশন অ্যালায়েন্সের অংশ হিসেবে এই আলোচনা হয়। এতে ইজরায়েলি কনস্যুলেট, ট্রেড মিশন এবং কর্নাটকের সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র (CySecK) সহযোগিতা করে। এই আলোচনায় কর্নাটক সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি ইজরায়েলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং স্টার্টআপ সংস্থার প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছিলেন।
দক্ষিণ ভারতে ইজরায়েলের কনসাল জেনারেল ওরলি উইটজম্যান জানান, এই উদ্যোগ ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বেরই প্রমাণ। তাঁর কথায়, ভারত ও ইজরায়েল—দুই দেশই শিক্ষা, ব্যবসা এবং নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের উপর গুরুত্ব দেয়। সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। ইজরায়েলের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভারতের দক্ষ কর্মী এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতা যুক্ত হলে তার সুফল শুধু দুই দেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আরও অনেক দূর ছড়িয়ে পড়বে।