রণজিৎ রায় ও সত্যজিৎ চক্রবর্তী, নিজস্ব সংবাদদাতা : হই হই করে দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতেছিলেন রাজ্যবাসী। এরইমধ্যে সপ্তমীতেই বিষাদের সুর। চোরবাগানের পুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ১৯জনের।

শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সার্বজনীন পুজোতে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান ১৯ জন দর্শনার্থী।
মৃতরা হলেন-
আরতি সরকার বিশ্বাস (চাকদা)
শুভম সোনকার (জোড়াবাগান)
শ্রীপর্ণা পোদ্দার (বৈদ্যবাটি)
প্রিয়া সমাদ্দার (নিউ ব্যারাকপুর)
মিঠু মণ্ডল (কুমোরটুলি)
পিয়ালি প্রামাণিক (আরামবাগ)
সন্দীপ বেজ (পূর্ব বর্ধমান)
টগর বেজ (পূর্ব বর্ধমান)
অভিষেক কুমার শ্রীবাস্তব (বিহার)
আয়াংশ শ্রীবাস্তব (বিহার)
দীপালি ঘোষ (বরানগর)
প্রাঞ্জল সরকার (আগরপাড়া)
আকৃতি কুমারি (বালি)
বর্ণালী হালদার (নিউটাউন)
তানিয়া বিশ্বাস (নিউটাউন)
কল্পনা জানা (পানিহাটি)
বিকাশ ভট্টাচার্য (হাওড়া)
স্নেহা ভাণ্ডারি (বিষ্ণুপুর)
মৃতদের মধ্যে একজন বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৪)। বাড়ি উত্তর হাওড়ার সালকিয়ায়। শনিবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে একাই উত্তর কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যান। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন ঠাকুর দেখা তার নেশা ছিল। প্রতি বছর অবিবাহিত বিকাশবাবু একাই ঠাকুর দেখতে যান বেরোতেন। শনিবার সন্ধ্যায় পর পুলিশের পক্ষ থেকে তার ভাই তাপস ভট্টাচার্যকে অসুস্থতার খবর জানায়। তাপসবাবু কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গেলে দেখতে পান তাঁর দাদাকে সাদা চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে। মুখের কাপড় সরাতেই ভাই দেখতে পান দাদার নিথর দেহ। তিনি দেহটি শনাক্ত করেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিলের জন্য তিনি সরাসরি দায়ী করেছেন পূজা কমিটির গাফিলতি এবং রাজ্য প্রশাসনকে। পরিবারের লোক হিসাবে তিনি চান গোটা ঘটনার তদন্ত হোক। প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক। এর পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। তাপসবাবুর কথায় বৃষ্টির সময় প্যান্ডেলে প্রচুর মানুষের ভিড়, ঢোকা বেরোনোর রাস্তা সরু এবং প্যান্ডেলের মধ্যে অন্ধকার থাকার জন্যই এই দুর্ঘটনা।