New Delhi, Jul 23 (ANI): Rapid Action Force (RAF) personnel stand guard during Cockroach Janta Party (CJP) protest demanding the resignation of Union Education Minister Dharmendra Pradhan over alleged examination irregularities and NEET paper leak at Sansad Marg, in New Delhi on Thursday. (ANI Photo)
২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গে এখনই দাড়ি টানতে নারাজ বিরোধীরা। ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতেই সংসদ চত্বরে ফের বিক্ষোভে নামল বিরোধী শিবির। সোমবার লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন হট্টগোলের জেরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতবি হয়ে যায় অধিবেশন। তারপরই সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভে শামিল হন একাধিক বিরোধী নেতা-সাংসদ। তাঁদের মূল দাবি, ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশি ভূমিকা এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে।

বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, কেসি বেণুগোপাল এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। বিক্ষোভরত সাংসদেরা স্লোগান তুলে দাবি করেন, ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ছাত্রদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। পাশাপাশি আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়।
সূত্রের খবর, এই ইস্যুতে সংসদের ভিতরে আলোচনায় অংশ না নিয়ে আন্দোলনের পথেই চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিভিন্ন বিরোধী দল। সেই লক্ষ্যেই এ দিন সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের দফতরে বৈঠকে বসেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাঝি, সমাজবাদী পার্টির রামজি লাল সুমন, সিপিআইয়ের পি সান্দোশ কুমার, কেসি বেণুগোপাল এবং জয়রাম রমেশ।

বিক্ষোভ শুরুর আগে সমাজমাধ্যমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের দাবির জবাব না দিয়ে তাঁদের উপর ‘নৃশংসতা’ চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে দেশের যুবসমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলেন তিনি। রাহুলের দাবি, বিহারে আন্দোলনরত ছাত্রদের লক্ষ্য করে একে-৪৭ থেকে গুলি চালানো হয়েছে এবং দিল্লিতে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, বিহারে শতাধিক ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কেন এমনটা করা হল, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে সরকারকে।

উল্লেখ্য, নিট এবং সিবিএসই পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই আন্দোলন ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সংঘাত। বিরোধীদের দাবি, ছাত্রদের উপর পুলিশি দমননীতি নিয়ে সংসদে আলোচনা হোক। যদিও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পরই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছিল পুলিশ।