New Delhi, Jul 27 (ANI): Lok Sabha LoP Rahul Gandhi, Congress MP Priyanka Gandhi, and Samajwadi Party national president Akhilesh Yadav with Opposition MPs as they protest at Makar Dwar during the ongoing Monsoon Session of Parliament, in New Delhi on Monday. (ANI Photo/Rahul Singh)
প্রশ্নফাঁস রুখতে আনা ‘পাবলিক এগজ়ামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনা শুরুর আগেই বিপত্তি। সোমবার দফায় দফায় অচল হয়ে পড়ল সংসদের দুই কক্ষ। বিরোধীদের স্লোগান, বিক্ষোভ এবং ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম একাধিক বার মুলতুবি করতে হয়।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা জানান, বিকেল ৫টা থেকে নিম্নকক্ষে প্রশ্নফাঁস-বিরোধী সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। তিনি সরকার ও বিরোধী পক্ষকে বিকেল পর্যন্ত ঐকমত্যে পৌঁছনোর আহ্বান জানান। স্পিকারের বক্তব্য, বিলটির উপর ইতিমধ্যেই ৯১টি সংশোধনী জমা পড়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি অন্তত ছয় ঘণ্টা, প্রয়োজন হলে তারও বেশি সময় ধরে আলোচনা চালানোর প্রস্তাব দেন।
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওম বিড়লা বলেন, ‘‘পাবলিক এগজ়ামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ দেশের যুবসমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নফাঁসের মতো অনিয়ম রুখতেই এই আইন আনা হয়েছে।’’ একই সঙ্গে তিনি সাংসদদের স্লোগান বন্ধ করে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আবেদন জানান।
এদিকে রাজ্যসভাও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বসার পর দুপুর ৩টা পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায়। সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার বিল, ২০২৬’ বিবেচনার জন্য পেশ করেন। তার কিছু পরেই সভা মুলতুবি ঘোষণা করেন উপ-সভাপতি হরিবংশ।
সংসদের ভিতরে অচলাবস্থার পাশাপাশি বাইরেও আন্দোলন জারি রাখে বিরোধীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, কেসি বেণুগোপাল, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতা সংসদ চত্বরে বিক্ষোভে শামিল হন। তাঁদের দাবি, ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাও প্রত্যাহারের দাবি তোলেন তাঁরা।
বিরোধী সূত্রের দাবি, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি ভূমিকার প্রশ্নে সরকারের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত সংসদের আলোচনায় অংশ না নিয়ে আন্দোলনের পথেই চাপ বজায় রাখবে বিরোধী শিবির। ফলে প্রশ্নফাঁস রুখতে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও রাজনৈতিক সংঘাত যে সহজে থামছে না, সোমবারের অধিবেশনেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল।