মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায়। প্রায় একমাস ধরে চলতে থাকা ইরান ইজরায়েলের সংঘাত ঘিরে উদ্বেগের আবহে এবার তৎপর কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তেল ও গ্যাসের মজুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সব মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে জরুরি বৈঠকের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi).

প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈঠক হবে। মূলত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল-ডিজেল এবং এলপিজি গ্যাসের বর্তমান মজুত, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়েই আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় কেন্দ্র আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে চাইছে।
কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, দেশে আপাতত বড় ধরনের সংকট না থাকলেও কিছু রাজ্যে সরবরাহে চাপ পড়েছে। বিশেষ করে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই আবহে প্রতিটি রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতি সরাসরি জেনে নেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেন্দ্র।
তবে এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনাও তুঙ্গে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি ভোটমুখী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা ব্যক্তিগতভাবে এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। তাঁদের বদলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যসচিবরা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে, বৈঠকটি বয়কট করতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট—এই সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চাইছে তারা। দলের মতে, শুধুমাত্র রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নয়, জাতীয় স্তরে স্বচ্ছ আলোচনা হওয়া উচিত। তাই এমন বৈঠকে অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
সব মিলিয়ে, একদিকে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন—এই দ্বিমুখী চাপের মধ্যেই জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে কেন্দ্র সরকার। শুক্রবারের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।