সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রবিবারের রাত অনেক অনেক প্রত্যুত্তরের রাত। অনেক কথা অনেক অপমানের উত্তর দেওয়ার রাত, মেয়েরা পারে না-এটা চিরতরে না বলতে দেওয়ার রাত, মেয়েদের হাত ধরেই হাত ধরেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। আর ঝুলন গোস্বামী? তিনিও জিতে গেলেন এদিন।
ভারতের মহিলাদের ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলার ঝুলন গোস্বামীর অবদান কম নয়।চাকদহ এক্সপ্রেস ঝুলন এখনও এক দিনের ক্রিকেটে বিশ্বের সর্বাধিক উইকেটের মালকিন কিন্তু বিশ্বকাপ জিততে পারেননি তিনি তবে এতদিনের সেই আক্ষেপ এ দিন কিছুটা হলেও পূরণ হল। ভারত বিশ্বকাপ জেতার পর ঝুলনের গলায় ঝরে পড়ছিল আবেগ। বোঝা যাচ্ছিল, হরমনপ্রীতদের এই জয়ে কতটা উত্তেজিত তিনি। সেই উত্তেজনার বাঁধ ভাঙল ভারতের উল্লাসের সময়।

হরমনপ্রীত রিচা জেমিমাদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ঝুলন। টিমের হ্যারি দিও তার হাতেই ট্রফি দিলেন তুলে কারণ এই মানুষটা এই ঝুলু দিই তো স্বপন দেখিয়েছিলেন বিশ্বকাপ জিততে হবে সেই স্বপন আর সেটা সত্যি হবার পর এই রকম এক ছবি এই রকম এক মুহূর্তেরই তো অপেক্ষা ছিল। কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজও। মিতালি এবং ঝুলন দুজনেরই একাধিক রেকর্ড। মিতালি মহিলাদের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক আবার অন্যদিকে ঝুলন সর্বাধিক উইকেট নেওয়া বোলার। দু’জনেই দু’বার করে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেললেও ট্রফি জিততে পারেননি। ২০০৫ ও ২০১৭, দু’বারই ফাইনালে হার দেখেছিল ভারত। অবশেষে ২০২৫-এ তাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল, যদিও প্রাক্তন হিসেবেই। কিন্তু তাতে কি? জয়ের আবেগ এসব বোঝে না

২০২২ সালে ঝুলন যখন বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেন তখন হরমন ও স্মৃতি তার ঘরে গিয়ে বলেছিলেন “২০২৫ সালে তুমি খেলবে কি না জানি না, তবে একটা কথা বলতে চাই, সে বার আমরা বিশ্বকাপ জিতবই। ফাইনালের দু’সপ্তাহ আগেই তাদের সঙ্গে কথা বলেন ঝুলন, হরমনপ্রীতরা জানান ঝুলুদির জন্যই এই বিশ্বকাপ জিততে চান তারা আর অবশেষে সেটা হয়েছে। সেই কারণে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি ঝুলন ।
সময়টা যেন এক আবর্তনের মতো ফিরে এল! ২০১৭ সালের সেই দিনটার কথা আজও ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা ভুলতে পারেন না। বাংলার গর্ব ঝুলন গোস্বামী হাজার যুদ্ধের সৈনিক, অগণিত জয়ের সাক্ষী, তবুও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ফাইনালের শেষ সীমানা টপকাতে পারেননি। গোটা দেশ তখন কেঁদেছিল সেই হার মেনে নিতে না পেরে। কিন্তু আজ, ঠিক আট বছর পর, ২০২৫ সালে, ইতিহাসের পুনর্লিখন করলেন হরমনপ্রীত কৌর ও তাঁর দলবল।