সূচনা পল্যে, সাংবাদিক: ইউক্রেনের হাতে কি তবে উঠতে চলেছে আমেরিকার অন্যতম অস্ত্র- টমাহক ক্রুজ মিসাইল ? প্রাথমিকভাবে ‘না’ বললেও এখন পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন এই অস্ত্র সরবরাহে সবুজ সংকেত দিয়েছে। ফলে এখন শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। এই ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব বিশাল। টমাহক এক ধরনের দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল, যা প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। আমেরিকার সামরিক শক্তির অন্যতম প্রতীক এই অস্ত্র। বহুদিন ধরেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই মিসাইলটি আমেরিকার কাছ থেকে চেয়ে আসছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প অনড় ছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি প্রকাশ্যে বলেন, “আমরা এমন কিছু দিতে পারি না যা আমাদের নিজেদের দেশের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।” এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে। কারণ তার আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকার হাতে প্রচুর টমাহক রয়েছে।

তবে সূত্রের দাবি, এই অবস্থান বদলের পিছনে রয়েছে এক গোপন কূটনৈতিক হিসাব। জেলেনস্কির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে ট্রাম্পের ফোনে কথা হয়েছিল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। মনে করা হচ্ছে, সেই কথোপকথনের পরই ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা বদলে যায়। কারণ, ইউক্রেন যদি টমাহক হাতে পায়, তবে তা সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে- বিশেষ করে তেলের খনি ও সামরিক ঘাঁটিগুলির ওপর।

পেন্টাগন বলছে, ইউক্রেনকে টমাহক সরবরাহে আমেরিকার অর্থনৈতিক বা সামরিক ক্ষতির আশঙ্কা নেই। অর্থাৎ প্রতিরক্ষা দফতরের মতে, এই পদক্ষেপে আমেরিকা নিরাপদ। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে এখনও দ্বিধায় ট্রাম্প। কারণ, ইউক্রেনকে এই মিসাইল দিলে রাশিয়া–আমেরিকা সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শুধু ইউক্রেন নয়, বরং গোটা বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। পেন্টাগনের অনুমোদনের পর এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে ট্রাম্পের দিকে। তিনি যদি সম্মতি দেন, তবে পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। এই মুহূর্তে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে আন্তর্জাতিক মহলে- “ট্রাম্প কি ইউক্রেনের হাতে টমাহক তুলে দেবেন, নাকি রাশিয়ার সঙ্গে শান্তির ভারসাম্য রক্ষা করবেন?” উত্তর যা-ই হোক, তার প্রভাব পড়বে শুধু কিয়েভ বা ওয়াশিংটনে নয়- প্রভাবিত হবে গোটা পৃথিবীর কূটনৈতিক মানচিত্র।