মাম্পি রায়, সাংবাদিক: ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ, এমনই ৭টা যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। সম্প্রতি গাজায় শান্তিপ্রতিষ্ঠার দাবিও করেছেন। নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এ কী হল ?
নোবেল শান্তি পুরস্কার জুটল না ডোনাল্ড ট্রাম্পের কপালে। আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র বা উইল অনুযায়ী, নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপকের নাম ঘোষণা করে নরওয়ের নোবেল কমিটি। ৬ অক্টোবর ৫ জনের একটি কমিটি এ বারের নোবেল শান্তি পুরস্কারবিজয়ীকে বেছে নিয়েছে।
ট্রাম্পের নাম দূরে সরিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হল ভেনেজুয়েলার মারিয়া করিনা মাচাদোকে। জানা যাচ্ছে, মূলত ৪টি কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের হাত থেকে ফসকে গেল।

এরইমধ্যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, “নোবেল কমিটি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে কোনও সমস্যা নেই। “ এক্স হ্যান্ডলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র স্টিভেন চিউং। এক্স পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ থামানো, মানুষের জীবন বাঁচানো এবং শান্তি চুক্তির মতো কাজ চালিয়ে যাবেন। মানবিকতার স্বার্থে কাজ করে যাবেন তিনি। নিজের ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে পাহাড় সরাতে পারেন তিনি, আর কেউ তাঁর মতো পারবেন না। নোবেল কমিটি ইতিমধ্যে প্রমাণ করে দিয়েছে যে শান্তি নয়, রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দেয় তাঁরা।“
১. নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেশের সময়সীমা ছিল ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ৩৩৮ জনের মনোনয়ন পেশ করা হয়েছে। এদিকে চলতি মাসের ১৯ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দায়িত্ব গ্রহণের ১২ দিন পর বন্ধ হয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া। এই সময়ের মধ্যে বিশ্বশান্তির লক্ষ্যে ট্রাম্পের কোনও কৃতিত্ব নেই বলে দাবি করা হচ্ছে।
২. নোবেল কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যাঁদের নোবেল পুরস্কার দেওযা হচ্ছে, তাঁদের ২০২৪-এর কাজের ভিত্তিতে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ওইসময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন না ট্রাম্প। তাই ট্রাম্প যে ৭টি যুদ্ধ থামানোর দাবি করছেন, তার ভিত্তিতে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া কার্যত অসম্ভব।
৩. প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন ট্রাম্প ইজরায়েলের বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত, ইউক্রেন, আমেরিকা, সুইডেনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাঁর হয়ে সওয়াল করেছেন। নোবেল পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করেছেন। কিন্তু কাউকে মনোনীত করলেই যে তিনি নোবেল পুরস্কারের জন্য লড়াই করতে পারবেন এটা নয়। নোবেল পুরস্কারের জন্য যাঁরা লড়াই করেন, সেই প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করার রেওয়াজ নেই। শুধুমাত্র জয়ীদের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়।
৪. নোবেল কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম শর্ত গণতন্ত্র। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বসবাস করছি যেখানে গণতন্ত্র ক্রমশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। জয়ী প্রার্থী হিসেবে মাচাদোর নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি জানায়, মাচাদো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে গিয়েছেন।

এদিকে নোবেল পুরস্কার না পেয়ে নরওয়ের উপরে শান্তির খাঁড়া নামাবেন না তো? এমনই আশঙ্কায় কাঁপছে নরওয়ে। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আমেরিকা ও নরওয়ের আলোচনা চলছে । চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আমেরিকার কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও নরওয়ের বাণিজ্যমন্ত্রী সিসিলি মিরসেথের বৈঠকের কথা রয়েছে। সেই চুক্তিতে আবার ট্রাম্প কোনও বোমা ফেলবেন না তো? নরওয়ের উপর শুল্ক চাপাবেন না তো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? সেই প্রশ্নই আশঙ্কায় ফেলেছে নরওয়েকে। নরওয়ের সরকার জানিয়েছে, নোবেল বিজয়ীর নাম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনও হাত নেই।