রণজিত রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: সম্প্রতি হাওড়ার সালকিয়া চোরবাগানে মৃত বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও বাঁকড়ার ডেঙ্গুর খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সময়টাতে (সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রথমে) আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর আউটব্র্রেক হয়ে থাকে। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অনেকটাই কম (এমনকি এক-দশমাংশও নয়)। যদিও তিনি নিজে এই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট নন বলে স্পষ্ট জানান।

অন্যদিকে, ডোমজুড় বিধানসভার অন্তর্গত হাওড়ার বাঁকড়া ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার নিউ মণ্ডলপাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বর্তমানে অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নোংরা-আবর্জনা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে স্থানীয় মানুষজন নর্দমার মধ্যেই সমস্ত বর্জ্য ফেলছেন। এর ফলে সম্পূর্ণ জল নিকাশি ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে গেছে এবং মশার উপদ্রব চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে ডেঙ্গু নিধন বা কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা মিলছে না বলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

আজ বাঁকড়া ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি শ্রী নারায়ণ বিশ্বাস সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ১৫ বছর ধরে এই এলাকা শাসকদলের পঞ্চায়েত প্রধান ও প্রশাসনের দ্বারা পরিচালিত হলেও আজ পর্যন্ত কোনো নিকাশি সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে এলাকার প্রায় ১৫-১৬ জন মানুষ জ্বরে আক্রান্ত এবং একাধিক ব্যক্তি ডেঙ্গু পজিটিভ হয়ে হাওড়া ও ডোমজুড় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পঞ্চায়েতের এই চরম ব্যর্থতা ও খামখেয়ালিপনার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় বসে নেই ভারতীয় জনতা পার্টি। দুর্গাপূজার বিসর্জন পর্ব শেষ হওয়া মাত্রই বিজেপির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে এই সমস্ত এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ ও মশা মারার ব্যবস্থা দ্রুত শুরু করা হবে। আমরা সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো!