বিশ্বজিৎ নস্কর,নিজস্ব সংবাদদাতা: কৃষক না হয়েও কৃষি সমবায় সমিতি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ তুলে রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। প্রাক্তন মন্ত্রী তাঁর পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি তুললেন তিনি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার-সহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও হুঁশিয়ারি দেন সুকান্ত।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় একাধিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এদিন প্রথমে আমতলায় ডায়মন্ড হারবার বিজেপি সাংগঠনিক জেলার কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর বারুইপুরে যাদবপুর বিজেপি সাংগঠনিক জেলা এবং জয়নগর বিজেপি সাংগঠনিক জেলার কার্যকর্তাদের সঙ্গেও সাংগঠনিক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করেন তিনি।
স্নেহাশিস চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা সমবায় ঋণ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের একাধিক নেতা সমবায় সমিতি এবং গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলি থেকে ঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলিকে রুগ্ন করে দিয়েছেন বলে বিজেপির অভিযোগ। তাঁর দাবি, স্নেহাশিস চক্রবর্তী কীভাবে কৃষি সমবায় সমিতি থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ পেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সুকান্তের বক্তব্য, ‘‘কৃষক না হয়েও কীভাবে কৃষি সমবায় সমিতি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল, তা তদন্ত হওয়া উচিত। প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবে তাঁর ক্ষমতা ও পদের কোথায় কোথায় অপব্যবহার হয়েছে, সেটাও তদন্ত করে দেখা দরকার।’’ তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক অভিযোগ করলেই হবে না। গোটা বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসা প্রয়োজন। তদন্তে যদি কোনও অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে জেল হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে বিজেপির এই অভিযোগের বিষয়ে স্নেহাশিস চক্রবর্তীর কোনও প্রতিক্রিয়া এদিন পাওয়া যায়নি। ফলে সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগের প্রকৃত তথ্য এবং ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। এদিন দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির বৈঠক বারবার পিছিয়ে যাওয়া নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন সুকান্ত। বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘‘ইন্ডি জোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ডুববে, না তাঁকে নিয়ে ডুববে না, সেটা ওনারাই ঠিক করুন।’’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে সুকান্তের আরও কটাক্ষ, রাজ্যে তৃণমূলকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডুবিয়ে দিয়েছেন। এবার তিনি যদি ইন্ডিয়া জোটের কাঁধে গিয়ে চাপেন, তাতেও বিজেপির কোনও অসুবিধা নেই বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে শাসকদলকে আক্রমণের কৌশল নিয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে সমবায় ও গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ঋণ নিয়ে ওঠা অভিযোগকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলছে গেরুয়া শিবির। এদিনের বৈঠকগুলিতেও দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর।
একদিকে প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সমবায় ঋণ নিয়ে তদন্তের দাবি, অন্যদিকে মমতা-অভিষেককে ঘিরে বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কটাক্ষ দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বৃহস্পতিবার সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যে দুই ইস্যুতেই প্রকাশ্যে এল বিজেপির আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান।