মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে প্রশাসনিক স্তরেও বড়সড় সিদ্ধান্ত নিলেন। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পুর নিয়োগ এবং সমবায় দুর্নীতিকাণ্ডে অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সিবিআই-সহ অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে তদন্তের অনুমতি দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার । বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে শহরের অবৈধ নির্মাণ ও বেআইনি কারখানার বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শুভেন্দুর দাবি, আগের সরকার বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত আমলাদের রক্ষা করতে তদন্তের অনুমতি আটকে রেখেছিল। তাঁর কথায়, ‘‘মানুষ যে আশা নিয়ে এই সরকারকে এনেছে, সেই কাজই আমরা করব। দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে তদন্তে আর কোনও বাধা থাকবে না।’’
রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত বা চার্জশিট দাখিল করা যায় না। সেই কারণেই এত দিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্ত প্রক্রিয়া আটকে ছিল বলে অভিযোগ। এ দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুর নিয়োগ দুর্নীতি এবং সমবায় সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সিবিআই বা আদালত-নিযুক্ত তদন্তকারী সংস্থাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে তদন্তের পথে প্রশাসনিক বাধা আর নেই।
দুর্নীতির পাশাপাশি শহরের অবৈধ নির্মাণ নিয়েও এ দিন কড়া অবস্থান নেয় রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার তপসিয়ার জিজে খান রোডে একটি চারতলা বাড়ির দোতলায় অবস্থিত চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ আরও কয়েক জন। ঘটনার পরই রিপোর্ট তলব করে নবান্ন। সেই রিপোর্টে উঠে আসে, বহুতলটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সেখানে কোনও বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় জড়িত অবৈধ কারখানার মালিকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বহুতল ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তাঁর নির্দেশ, যেসব কারখানার বৈধ অনুমোদন বা বিল্ডিং প্ল্যান নেই, সেখানে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অবৈধ কারখানা ও নির্মাণ চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ অডিট শুরু হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, দুর্নীতি ও বেআইনি নির্মাণ— দুই ক্ষেত্রেই কড়া বার্তা দিতে চাইছে নতুন সরকার। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে সামনে রেখেই এই অবস্থান বলে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের।