বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : পাঁচ বছর আগের সেই বহুচর্চিত ঘটনা। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিরাকোলে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। দীর্ঘ সময় পর ফের সেই মামলার তদন্তে নতুন মোড়। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এবার জাহাঙ্গীর খান নামে আরও এক ব্যক্তিকে মামলায় নতুন করে যুক্ত করে গ্রেফতার দেখাল উস্তি থানার পুলিশ। তাঁকে নিয়ে নাড্ডার কনভয়ে হামলা সংক্রান্ত মামলায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হল।

পুলিশ সূত্রে খবর, এর আগে এই মামলায় তৌসিফ আহমেদ, আরিফ হোসেন এবং আনিসুর রহমান নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে উঠে আসে আরও কিছু তথ্য। সেই সূত্র ধরেই জাহাঙ্গীর খানের নাম সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। এরপরই তাঁকে মামলায় যুক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং চার রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি কোথা থেকে এল, কার কাছ থেকে সেগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনার সঙ্গে অস্ত্রগুলির কোনও যোগ রয়েছে কি না—এখন সেই সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় শিরাকোল এলাকায় তাঁর কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই সময় কনভয়ের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর এবং পাথর ছোড়ার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল তীব্র চাপানউতোর। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উঠেছিল একাধিক প্রশ্ন।
সেই ঘটনার তদন্তে এবার ফের সক্রিয় হয়েছে উস্তি থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের নজরে এখন মূলত ধৃত চারজনের ভূমিকা। হামলার সময় তাঁরা ঘটনাস্থলে ঠিক কোথায় ছিলেন, কার নির্দেশে বা কার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন এবং হামলার ঘটনায় তাঁদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল—তা জানার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
শুধু হামলার ঘটনা নয়, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েও আলাদা করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্ত্রগুলির কোনওটির সঙ্গে অতীতের অপরাধের যোগ রয়েছে কি না, সেগুলি বৈধ লাইসেন্স ছাড়া রাখা হয়েছিল কি না এবং অস্ত্রগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ধৃতদের ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ধৃতদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পিছনে থাকা আরও কোনও যোগসূত্র সামনে আসতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার বলেন, জেপি নাড্ডার উপর হামলার ঘটনার তদন্তে চারজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেই জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। পাশাপাশি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
ফলে পাঁচ বছর আগের নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনা ফের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। নতুন করে গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধারের দাবি এবং ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ—সব মিলিয়ে পুরনো এই মামলায় তদন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।