New Delhi, Sep 11 (ANI): Prime Minister Narendra Modi in a group photograph with Russian President Vladimir Putin, Iranian President Masoud Pezeshkian, South African President Cyril Ramaphosa and other dignitaries at the BRICS Business Forum 2026, in New Delhi on Friday. (DPR PMO/ANI Photo)
পরের মহামারি বা স্বাস্থ্য-জরুরি পরিস্থিতি কড়া নাড়ার আগেই প্রস্তুতি সেরে রাখতে হবে। ব্রিকস নেতাদের এমনই বার্তা দিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আবহে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা, উদ্ভাবন, স্থিতিস্থাপকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সোমবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে টেড্রস জানান, এ বারের ব্রিকস সম্মেলনের চারটি মূল বিষয়—‘Resilience’, ‘Innovation’, ‘Cooperation’ এবং ‘Sustainability’—স্বাস্থ্যক্ষেত্রের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাঁর মতে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে ব্রিকসের এই চারটি লক্ষ্যই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করা, রোগের নজরদারি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছেন WHO প্রধান। একই সঙ্গে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জনস্বাস্থ্যের কাজে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে সেই প্রযুক্তির সুবিধা যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছয়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা বলেছেন টেড্রস।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে তাঁর বার্তায়। দেশ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি WHO-র ‘Pandemic Agreement’-এর ‘Pathogen Access and Benefit Sharing’ (PABS) সংক্রান্ত সংযোজন চূড়ান্ত করার জন্য ব্রিকস দেশগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর পরেই ব্রিকস নেতাদের উদ্দেশে চার দফা বার্তা দেন টেড্রস। তাঁর আহ্বান—পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতি আসার আগেই প্রস্তুতি বাড়াতে হবে, বাজার যেখানে পৌঁছতে পারে না সেখানে উদ্ভাবনকে পৌঁছে দিতে হবে, সীমান্ত ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে সহযোগিতাকে বাস্তবে কার্যকর করতে হবে এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বাস্তবায়ন ও জবাবদিহির মাধ্যমে গৃহীত উদ্যোগগুলিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হবে।
শনিবার গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণাতেও বিশ্ব স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে ব্রিকস। সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি WHO-র সমন্বয়কারী ভূমিকার প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে সদস্য দেশগুলি।
এ ছাড়াও যক্ষ্মাকে বিশ্বজুড়ে বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় ব্রিকসের সমন্বিত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগকেও স্বাগত জানানো হয়েছে।
ঘোষণাপত্রে ঐতিহ্যবাহী, পরিপূরক ও সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার দরজা খুলেছে ব্রিকস। আয়ুষ মন্ত্রকের প্রস্তাবিত বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ভারতের প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবের মতে, এই উদ্যোগ ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।