মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মহা সমারোহে হচ্ছে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। বিজেপির ঐতিহাসিক শপথ পর্ব ঘিরে কর্মী সমর্থকদের উৎসাহ উন্মাদনা তুঙ্গে।

বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল আরএন রবি। এছাড়াও ব্রিগেডের মঞ্চে শপথ বাক্য পাঠ করলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক।
কাতারে কাতারে ভিড় জমিয়েছেন সমর্থকেরা। বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। এছাড়াও ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডা, ধর্মেন্দ্র প্রধান। পাশাপাশি হাজির ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামির মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যের নেতারাও। সুসজ্জিত মঞ্চে রয়েছে দুর্গা ও কালীঘাট মন্দিরের ছবি। দিনটা ২৫ বৈশাখ, তাই কবিগুরুর ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ বিশিষ্টরা।
দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে সরকার গড়ল বিজেপি। নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম সারিতে জায়গা পেয়েছেন সংগঠনের একাধিক পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বঙ্গ বিজেপির বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই প্রথম দফার মন্ত্রিসভা গঠনে এই বার্তা দিতে চেয়েছে দল।
এর আগে শুক্রবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মত ভাবে শুভেন্দুকে নেতা নির্বাচিত করা হয়। পরে দলীয় বিধায়কদের সমর্থনপত্র নিয়ে তিনি রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানান। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে তখনই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, বাংলায় “পরিবর্তনের সরকার” গড়তেই তাঁকে সামনে আনা হচ্ছে।
এ বারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন বিজেপির প্রধান মুখ। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হারান শুভেন্দু। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামেও জয় ধরে রাখেন তিনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পায় ২০৭টি আসন। অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেস থামে ৮০ আসনে। স্বাধীনতার পর এ বারই বাংলার ভোটে সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির গড়েছে রাজ্য। দুই দফা মিলিয়ে গড় ভোট পড়েছে ৯২ শতাংশেরও বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল ভোটার উপস্থিতিই বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের অন্যতম বড় ইঙ্গিত ছিল।