কোন বিপদ লুকিয়ে জানেন?

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ শীতকালের সোনা যদি কাউকে বলা যায় তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে পালং শাক, এই সময়ে বাজারে গেলে বিভিন্ন সবজি বিক্রেতাদের পশরার দিকে তাকালেই মন ভালো হয়ে যায়, সবুজের সমাহার দেখে আর তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে নজর কাড়ে তা হল পালং শাক। শীতকালে পালং শাকের জুড়ি মেলা ভার। এর যেমন প্রচুর গুণাগুণ আছে, সঙ্গে আছে অনেক নেতিবাচকতাও। জানেন কি সেইসব? কি আছে পালং শাকে?

পালং শাকে আছে শারীরিক বিকাশের প্রায় সব পুষ্টি উপাদান।পালং শাক খনিজ, ভিটামিন এবং অন্যান্য অনেক পুষ্টিতে সমৃদ্ধ খাদ্য।আবার ভিটামিন এ, সি, ই, কে এবং বি-তে সমৃদ্ধ।এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, ক্যারোটিন, আয়রন, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস অ্যামাইনো অ্যাসিড। সাধারনত পালং শাক সবজি হিসেবে বা পরোঠা হিসেবে খেতে সকলে পছন্দ করেন, কিন্তু আপনি যদি পালং শাকের পূর্ণ উপকারিতা চান, তাহলে পালং শাকের রস পান করাই সেরা উপায়। পালং শাকের রসে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। যা ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এর সেবনে মুখে উজ্জ্বলতা আসে। পালং শাকে রয়েছে ভালো পরিমাণে ভিটামিন।

এক্ষেত্রে পালং শাকের রস পান করলে হাড় মজবুত হয়। পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে পালং শাকের রস পান করারও পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সহায়ক। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলেও পালং শাকের রস আপনার জন্য উপকারী হবে। গর্ভবতী মহিলাদেরও পালং শাকের রস পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পালং শাকের রস পান করলে গর্ভবতী নারীর শরীরে আয়রনের ঘাটতি দূর হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু পালং শাক একেবারে খাওয়া যায় না তা হল-কিডনি স্টোন, রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে, থাইরইয়েডের সমস্যা থাকলে, ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে, কিডনি খারাপ বা ডায়ালিসিস চললে, সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে, পালং শাকে অক্সালেট নামক একটি উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে। অক্সালেট শরীরে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর তৈরি করে। যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা আছে বা একবার হয়ে গিয়েছে, তাদের জন্য পালং শাক বিষের সমান। পালং শাকে প্রচুর ভিটামিন K থাকে। ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, যা রক্ত পাতলা করার ওষুধের কার্যকারিতাকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। এর ফলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পালং শাকে ‘গয়ট্রোজেন’ নামক যৌগ থাকে, যা থাইরয়েড গ্রন্থির কাজে বাধা তৈরি করে। বিশেষ করে যাদের আয়োডিনের অভাবজনিত থাইরয়েডের সমস্যা আছে, তাদের এটি কম খাওয়া উচিত। আসলে সব সবজির যেমন কিছু গুণাগুণ থাকে তেমনই কিছু না কিছু নেতিবাচকতাও থাকে, তাই সেই বুঝেই খাওয়া উচিত।