বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : এবার ইলিশ মাছ চাষ হবে পুকুরেই । দুদিন আগে পরীক্ষামূলকভাবে কাকদ্বীপে সুন্দরবন প্রতিমন্ত্রী নিজের হাতে ইলিশের পোনা ছাড়লেন জলাশয়ে। ইলিশ মাছের প্রতি বাঙালির ভালোবাসা অপরিসীম বাঙালি ও ইলিশ যেন একে অপরের পরিপূরক। ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ হলেও প্রজননের জন্য ইলিশ মিঠা জলের নদীতে আসে। সমুদ্র ও নদীর এই মাছ যাকে মাছের রাজা বলা হয়, তা এখন বাংলায় পুকুরে চাষ করা হচ্ছে ।

পুকুরে ইলিশ চাষ বিষয়ক গবেষণার ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত পর্যায়টি বর্তমানে চলছে। কাকদ্বীপের ‘সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ব্র্যাকিশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার’ (ICAR-CIBA) গবেষণার ষষ্ঠ বা চূড়ান্ত পর্যায় শুরু করেছে।
এই পর্যায়টি সফল হলে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত পুকুরেও ইলিশ চাষ করা সম্ভব হবে এবং বাজারে পুকুরে চাষ করা ইলিশ পাওয়া যাবে। যদিও বর্তমানে পুকুরে ইলিশ চাষের কিছু প্রচলন রয়েছে, তবুও সেই পদ্ধতিকে পুরোপুরি সফল বলে গণ্য করা হয় না।
কাকদ্বীপের মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা গত দশ বছর ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। এই পরীক্ষাগুলো এখন পঞ্চম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৯৮২টি গ্রামের পুকুরে ইলিশ চাষ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে যখন ডিম থেকে পোনা ফোটানো সম্ভব হবে। এই প্রক্রিয়ায় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে গবেষণার চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে।
গবেষণার পঞ্চম বা চূড়ান্ত পর্যায় উপলক্ষে শনিবার সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রে অত্যাধুনিক ‘স্যালিনিটি গ্রেডিয়েন্ট রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম’ (RAS)-এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ICAR-CIBA-র অধিকর্তা ড. কুলদীপ কে. লাল এবং কাকদ্বীপ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ড. দেবাশিস দে-ও উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই নতুন গবেষণা প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই পরীক্ষাটি এক বছর ধরে চলবে।

কাকদ্বীপ শাখার অধ্যক্ষ এবং ইলিশ গবেষণা প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী ড. দেবাশিস দে বলেন, “পুরো প্রকল্পটি বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব বা বাস্তুতান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনটি অগভীর কূপে তিন ধরনের জল জমা করা হয়েছিল। বৈদ্যুতিক পাম্পের সাহায্যে সেই জলকে ঘূর্ণায়মান স্রোত বা ‘ভর্টেক্স’-এ পরিণত করা হয়। পাশাপাশি জলের তাপমাত্রা, দূষণ ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে ইলিশের পোনা ছাড়া হয়। এই গবেষণার ক্ষেত্রে প্রায় এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হবে।”
ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মায়ানমার-সহ বিশ্বের ১১টি দেশে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। ভারতে মহানদী, চিল্কা, গোদাবরী, রূপনারায়ণ, হুগলি ও নর্মদা নদীতে ইলিশ পাওয়া গেলেও বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৮৬ শতাংশই আসে বাংলাদেশ থেকে। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং দেশটির জিডিপিতে (GDP) ইলিশ উৎপাদনের অবদান ১ শতাংশ। ২০১৮ সালে ইলিশের উৎপাদন ক্রমাগত কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ছোট ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল।
গত দুদিন আগে কাকদ্বীপে পরীক্ষামূলকভাবে ইলিশ মাছের পোনা ছাড়া হলো কয়েকটি ছোট ছোট জলাশয়ের মধ্যে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন প্রতিবন্ধী দীপঙ্কর জানা সহ আরো অনেকে।