পুজো মানেই ছুটির আমেজ। ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো। টানা কয়েক দিন কাজের ব্যস্ততা ভুলে উৎসবের মেজাজে গা ভাসানোর সুযোগ। বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিতেই কি বড়সড় বদল? আগামী দুর্গাপুজো থেকে কি তবে ছুটির আনন্দে পড়তে চলেছে কোপ? সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের জন্য এমনই এক সিদ্ধান্তের কথা সামনে আনল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

কিন্তু কেন হঠাৎ এই কড়া পদক্ষেপ? পুজোর মরশুমে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে কি কোনও প্রশ্ন উঠেছে? নাকি দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভেঙে এবার অন্য পথে হাঁটতে চাইছে সরকার? শুক্রবার দ্বাদশীর দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট, হাসপাতাল আর পাঁচটা সরকারি দফতরের মতো নয়। এখানে পরিষেবায় ঢিলেমির কোনও জায়গা নেই। তাই ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির যে চেনা সংস্কৃতি, তা বন্ধ করার বার্তা দিলেন তিনি। আগামী বছর থেকে পুজোর চার দিন কীভাবে চলবে হাসপাতাল? কারা ছুটি পাবেন, আর কাদের থাকতে হবে কর্মস্থলে? সেই নিয়মেই এবার বড় বদলের ইঙ্গিত।
পুজো মানেই লম্বা ছুটি। ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো। টানা কয়েক দিন ছুটির আমেজে মেতে ওঠেন সরকারি কর্মীদের একাংশ। কিন্তু হাসপাতালের ক্ষেত্রে এবার সেই ছবিতে বদল আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। পুজোর ছুটিতে আর ঢিলেঢালা মনোভাব নয়। জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা সচল রাখতে আগামী বছর থেকে দুর্গাপুজোয় মিলবে না টানা ছুটির সেই পুরনো রেওয়াজ। শুক্রবার দ্বাদশীর দিন এমনই কড়া বার্তা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের। প্রশ্ন উঠছে, নতুন নিয়মে ঠিক কী কী বদল আসতে চলেছে?
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, হাসপাতাল কোনও সাধারণ সরকারি দফতর নয়। এখানে প্রতিটি মুহূর্তে রোগীদের চিকিৎসা ও জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলিতে ছুটির আবহ তৈরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রথা এবার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত। মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, পুজোর মরশুমেও পরিষেবার সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না। রোগীদের চিকিৎসা পেতে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
তবে পুজোর চার দিন। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীর জন্য বিশেষ রোস্টারের ব্যবস্থা থাকবে। আগামী বছর থেকে এই চার দিনে নন-মেডিক্যাল কর্মীদের ক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা অর্ধেক রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, চিকিৎসক ও নার্সদের মতো জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে আগেভাগে নির্দিষ্ট ছুটির রোস্টার থাকবে না। হাসপাতালের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের উপস্থিত থাকতে হবে। তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার বিস্তারিত নিয়ম ও কর্মী বণ্টন কীভাবে হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু আগামী বছরের জন্য ঘোষণা নয়, চলতি বছরেও ছুটির রেওয়াজে বদল আনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মেডিক্যাল কলেজগুলির শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট থেকে সাফাইকর্মী। বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের কাজে ফেরানো হয়েছে। যাঁরা ছুটিতে ছিলেন, তাঁদেরও কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অর্থাৎ, হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা বাড়ানোর বার্তা।
দীর্ঘদিনের রীতি বদলে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিল স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু প্রশ্ন একটাই। উৎসবের মরশুমে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের অন্য কর্মীদের কাজের চাপ সামলে কীভাবে পরিষেবা আরও মসৃণ করা হবে? রোগীরা যাতে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পুজোর ছুটির বদলে এবার কি হাসপাতালের পরিষেবাতেই বাড়তি নজর? নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তার প্রভাব কতটা পড়ে, নজর থাকবে সেদিকেই।