বিশ্বজিৎ পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা: যদি এমনটা হয় যে, সারা বছরই যাতায়াত করতে হয় এক হাঁটু জলে ভরা রাস্তা দিয়ে, খানা-খন্দ পেরিয়ে ! প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করে গন্তব্যে যাওয়া যেন রোজনামচা। ব্যাজার মুখে সকাল শুরু, অভিযোগে ভরা মন মানতে চায় না বর্ষা বাদে বছরের অন্য সময় এহেন অবস্থা। ঠিক এমনটাই দীর্ঘ দিনের সঙ্গী শহরের অন্যতম ব্যস্ত এবং জনবহুল বিমানবন্দর এলাকার ১নং গেট এর মন্দির-মসজিদ গলির বাসিন্দাদের।

যশোর রোড থেকে যে রাস্তাটি মসজিদ-এর পাশ দিয়ে সোজা দমদমের দিকে চলে যাচ্ছে, সেখানে রয়েছে তিনটি স্কুল, নামী-দামী রেঁস্তোরা এবং হাসপাতাল। বলাই বাহুল্য, যথেষ্ট গুরুত্ত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি অল্প বৃষ্টিতেই ডুবে থাকে জলের তলায়। ভারী বর্ষায় তো কথাই নেই, সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে ওঠে। এমনকি টোটো, অটো অবধি পাওয়া যায় না যাতায়াতের জন্য।
শীতকালের দুটো মাস বাদ দিলে আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে প্রায় সারা বছরই অল্প বিস্তর বৃষ্টি হয়ে থাকে। এই কারণেই জল জমে থাকে সারাবছর। এলাকার জল নিকাশি ব্যবস্থা একেবারেই নেই, পৌরসভার উদাসীনতা এবং গা-ছাড়া মনোভাবকে দায়ী করেছেন বাসিন্দারা। ফলত, দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায় সময়ই। কঙ্কালসার রাস্তার মেরামত নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। লাভ হয়নি প্রতিবাদ করে, শাসক দলের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে, এমন সাহস কই! এলাকায় একটি জলাশয় ছিল। কিছুদিন আগেও, সেটিও ভরাট হয়ে গিয়েছে। পরিবর্তে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বিলাসবহুল হোটেল।

দিনের পর দিন এভাবে জলাশয় বুজিয়ে বহুতল, হোটেল, রেঁস্তোরা গজিয়ে উঠছে ব্যাঙের ছাতার মতো। সব দেখেও চোখ কিছুই দেখে না প্রশাসক। স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় এমন জমা জলে নিত্য ভোগান্তির মধ্যে দিয়েই বছরের পর বছর যাতায়াত করছে পড়ুয়ারা। গোটা রাস্তায় বিক্ষিপ্তভাবে কিছু জায়গায় পুজো পার্বণ, ভোটের আগে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানোর বৃথা চেষ্টা চলে প্রতিবার। উৎসব ফুরিয়ে যায়, পাকাপাকি বন্দোবস্ত বা আগ্রহ দেখায়না কেউ। পৌরসভায় জানিয়েও লাভ হয়নি। জমা জলে, বিক্ষিপ্ত ভাবে রাস্তায় ইট, পাথর দিয়ে চলাচল করতে হয় নিত্যযাত্রীদের। অযোগ্য রাস্তা মেরামতি করার ফলে অসমান এবং নিম্নমানের কাজে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসীরা। কখনো উল্টে যাচ্ছে টোটো, কখনও বা সাইকেল নিয়ে হুড়মুড়িয়ে পড়ছেন বয়স্ক মানুষজন। হেলদোল নেই কারোর।