New Delhi, Sep 12 (ANI): Prime Minister Narendra Modi with Chinese President Xi Jinping and Russian President Vladimir Putin at the BRICS Summit, in New Delhi on Saturday. President of Indonesia Prabowo Subianto also present. (PM Narendra Modi Instagram/ANI Photo)
ভারত যৌথ ঘোষণাপত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভাষা (Balancing Language) প্রস্তাব করে:
”Non-Western, but not Anti-Western” — রাশিয়া বা ইরানের পছন্দসই তীব্র আমেরিকা-বিরোধী অবস্থান এড়িয়ে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের ভারসাম্য রেখে সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে যেকোনো রাষ্ট্রের দ্বারা পরিচালিত ‘একতরফা সামরিক আগ্রাসন’ (Unilateral War/Action) এবং আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘনের একযোগে নিন্দা করা হয়।
দিল্লি ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু
১. একতরফা যুদ্ধের বিরোধিতা: যুদ্ধ বা সামরিক শক্তি দিয়ে সংকট সমাধান সম্ভব নয়। একতরফা আগ্রাসন বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বাড়ায় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি তৈরি করে।
২. কূটনীতি ও আলোচনা: সংলাপের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক শান্তি স্থাপন করা সম্ভব।
৩. সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বার্তা: আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে চলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছে।
৪. বিশ্ব শাসনের সংস্কার: বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ (IMF) এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) গ্লোবাল সাউথ (Global South)-এর দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও সংস্কারের জোরালো দাবি তোলা হয়েছে।

এই সাফল্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভূমিকা: বৈশ্বিক বিভাজনের মধ্যে ভারত প্রমাণ করেছে যে তারা গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরস্পরবিরোধী শক্তির মধ্যেও একটি নিরপেক্ষ এবং বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী।
ব্রিকস জোটের ঐক্য: ইরান ও আমিরাতের সম্মতি না মিললে যৌথ ঘোষণাপত্র ব্যর্থ হতো, যা ব্রিকস-এর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলতে পারত। ভারতের কৌশলে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অর্থনৈতিক এজেন্ডা সুরক্ষা: রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী এই জোট সরবরাহ শৃঙ্খল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শক্তি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যে নিজস্ব এজেন্ডায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে পেরেছে।