শ্যাম বিশ্বাস, প্রতিনিধি, বসিরহাট : বাংলা ভাষায় কথা বলায় ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপরে নেমে এল হামলা। কয়েকদিন আগে দিল্লি হরিয়ানার মতো একাধিক রাজ্যে একই কারণে হামলার অভিযোগ উঠছিল। এবার একই ঘটনা ঘটল ওড়িশায়। আহত শ্রমিকের বাড়িতে আর্থিক সাহায্য নিয়ে দেখা করলেন বিধায়ক সুকুমার মাহাত।
কয়েকদিন আগে সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের বয়ারমারি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের হুলোপাড়া এলাকার বাসিন্দা তপসেল জমাদার পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক। ওড়িশায় কাজ করতে গিয়েছিলেন তিনি। টাটা স্টেশনে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলায় কথা বলার অভিযোগে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু সাহায্য নিয়ে ওই পরিযায়ী শ্রমিককে দ্রুত ওই এলাকা থেকে উদ্ধার করেন সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাত। কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য ভর্তি করা হয় তাঁকে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। জখম পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাত, সন্দেশখালি দুই নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ মল্লিক, এক নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা সহ বিশিষ্টরা। ওই পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে নানান সুবিধা অসুবিধার কথা শোনেন তাঁরা।

আহত পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় চার বস্তা চাল, দুবস্তা আলু, দশ লিটার সরষের তেল, ৪০ টা ডিম, পাঁচ কিলো ডাল এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা। শুধু এই পরিযায়ী শ্রমিক না এলাকার সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের ভাতার ব্যবস্থা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিধায়ক সুকুমার মাহাত।

রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই বলেই শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে যেতে হচ্ছে বলে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। এদিকে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমশ্রী’ নামক একটি পোর্টাল তৈরি করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে নাম নথিভুক্ত করালেই পরিচয়পত্র পাবেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। রাজ্যেই যদি কর্মসংস্থান হয়, তাহলে বাড়তি আয়ের জন্য ভিনরাজ্যে কেন যেতে হচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের, উঠছে প্রশ্ন।