আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ তোলেন জাহাঙ্গীর খান। বলেন তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়েও সারাদিন ফল তাতেই পড়েছিলেন। যাতায়াতের পথে বহু গরিব মানুষ এবং বয়স্ক নাগরিকদের হেনস্থা করেন ওই পর্যবেক্ষক। আমি আগেই বলেছিলাম পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি। চার তারিখ ভোটের ফলাফল বেরোলে তা টের পাবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এবং ওই পুলিশ পর্যবেক্ষক।
ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার (Ajay Pal Sharma) নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর ভূমিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নষ্ট করছে এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-কে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

মামলাটি দায়ের করেছেন পশ্চিমবঙ্গের এক ভোটার আদিত্য দাস। তাঁর অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। বিশেষ করে ফলতা কেন্দ্রের ওই প্রার্থী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, অবিলম্বে ওই আধিকারিককে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হোক, যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও, যেখানে অভিযোগ, ওই আইপিএস আধিকারিককে জাহাঙ্গির খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পিটিশনে বলা হয়েছে, “নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অভিযুক্ত আধিকারিক ভয় দেখানো, প্রভাব খাটানো এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে জড়িয়ে পড়েছেন। এর ফলে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” আরও দাবি করা হয়েছে, কোনও অভিযোগ বা এফআইআর ছাড়াই কোনও প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া আইনসিদ্ধ নয়, বিশেষত নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ থাকার সময়ে।
আবেদনকারীর আইনজীবীরা দ্রুত শুনানির জন্য সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেও এখনও পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দফতর থেকে জরুরি শুনানির নির্দেশ মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। ফলে বিষয়টি কবে আদালতে উঠবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেই একই অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিলেন আবেদনকারী। তবে ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন হস্তক্ষেপ করতে নারাজ জানিয়ে মামলাটি গ্রহণ করেনি আদালত।