অমিত শাহের বিবৃতি চেয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভে ফের উত্তপ্ত সংসদ। ২০ জুলাই প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির দাবিতে শুক্রবার দুই কক্ষেই স্লোগান-বিক্ষোভ শুরু হয়। তার জেরে রাজ্যসভা ও লোকসভা— দু’টি কক্ষই আগামী ১০ অগস্ট সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি হয়ে যায়।

রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের মধ্যে চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষের সাংসদদের আসনে বসার আবেদন জানান। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দিনের মতো অধিবেশন মুলতবি করে দিতে হয়।
অন্য দিকে, লোকসভাতেও একই দাবিতে সরব হন বিরোধী সাংসদেরা। বিরোধীদের বক্তব্য, ২০ জুলাই প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই সংসদে এসে বিবৃতি দিতে হবে। কিন্তু কেন্দ্রের বক্তব্য, কোন মন্ত্রী কখন সংসদে এসে জবাব দেবেন, তা বিরোধীরা ঠিক করে দিতে পারেন না।
লোকসভায় বিরোধীদের দাবির জবাব দিতে গিয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘‘অমিত শাহের নাম শুনেই জঙ্গিরা কাঁপে।’’
রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে ফের অমিত শাহের বিবৃতির দাবি তোলেন। তাঁর দাবি, চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে এসে বিবৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না। খড়্গের অভিযোগ, ‘‘চেয়ারম্যানের কথা না মেনে তাঁকে এবং সংসদকে অপমান করা হচ্ছে।’’
খড়্গের এই দাবির পাল্টা জবাব দেন রিজিজু। তাঁর দাবি, চেয়ারম্যান অমিত শাহকে সংসদে এসে বিবৃতি দেওয়ার কোনও নির্দেশ দেননি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিরোধী দলনেতা সংসদকে বিভ্রান্ত করছেন। আমি রেকর্ডে বলছি, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ চত্বরে থাকেন। যে মন্ত্রকের যে বিষয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীই তার উত্তর দেন। কোন মন্ত্রী কখন আসবেন, তা বিরোধীরা ঠিক করতে পারে না।’’
রিজিজুর আরও দাবি, বিরোধীরা সকাল ১১টার পর সংসদ থেকে বেরিয়ে গেলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে থাকেন। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন জবাব দিতে আসবেন, তখন আপনারা শুনবেন না। শুধু সংসদের কাজ ব্যাহত করবেন।’’
এ দিন সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনেও বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদেরা। বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় নিয়ে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দেন তাঁরা। ‘অমিত শাহ জবাব দাও’— এই স্লোগানে সরব হন বিরোধীরা।
এরই মধ্যে লোকসভায় পাশ হয়েছে মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস ডেভেলপমেন্ট (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬। সংশোধিত বিলে এমএসএমই-র জন্য বিনামূল্যে ও স্বেচ্ছামূলক নথিভুক্তির জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, রাজ্যগুলিতে অতিরিক্ত ‘ফ্যাসিলিটেশন কাউন্সিল’ গঠন এবং কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বদলে ধাপে ধাপে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। প্রথমবারের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তার ব্যবস্থাও থাকছে।