‘১০০% খাঁটি’, ‘১০০% প্রাকৃতিক’, ‘১০০% পিউরিটি গ্যারান্টিড’ বা ‘১০০% অর্গ্যানিক’— এই ধরনের দাবি লেখা রয়েছে এমন একাধিক পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য খাদ্য সুরক্ষা ও মান নির্ধারণকারী সংস্থা (FSSI)-এর নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে শুনানির সুযোগ না দিয়েই এমন কঠোর নির্দেশ জারি করা সমীচীন হয়নি।

বিচারপতি অমিত মহাজনের বেঞ্চ শুক্রবার ডাবর ইন্ডিয়ার দায়ের করা রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে FSSI-এর ৩ অগস্টের নির্দেশে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে ডাবরের পক্ষ থেকে প্রবীণ আইনজীবী সন্দীপ শেঠি দাবি করেন, সংস্থাকে কোনও শোকজ নোটিস দেওয়া হয়নি, শুনানিরও সুযোগ মেলেনি। শুধুমাত্র পণ্যের গায়ে ‘১০০%’ শব্দ ব্যবহারের কারণেই বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলি বহু দশক ধরেই একই লেবেলে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতেও নিষেধাজ্ঞা জারির আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিস দেওয়ার বিধান রয়েছে। অথচ এ ক্ষেত্রে কোনও জরুরি পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়নি।
আদালতও প্রাথমিক ভাবে সেই যুক্তিতে সায় দিয়ে জানায়, এমন প্রকৃতির নির্দেশ দেওয়ার আগে সংস্থাটিকে অন্তত শুনানির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি আদালত এ-ও জানতে চায়, ‘১০০%’ দাবি সংক্রান্ত ফলের রসের মামলায় ডাবরের আগের চ্যালেঞ্জের কী অবস্থা। জানানো হয়, সেই মামলা এখনও বিচারাধীন এবং সেখানে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ মেলেনি। তবে ডাবরের দাবি, বর্তমান মামলার পরিস্থিতি আলাদা, কারণ এখানে সরাসরি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে, কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী আশিস দীক্ষিত আদালতে জানান, এর আগে ডাবরকে ‘ইমপ্রুভমেন্ট নোটিস’ দেওয়া হয়েছিল। একই ধরনের অভিযোগে অন্য পণ্যগুলির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। যদিও ডাবরের বক্তব্য, আগের নোটিসটি কেবল ‘রিয়েল’ ফলের রস সংক্রান্ত ছিল, বর্তমান নির্দেশে অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলির সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।
৩ অগস্ট FSSI যে নির্দেশ জারি করেছিল, তাতে ডাবর হানি, সুন্দরবনস হানি, হিমালয়ান অ্যাপল সাইডার ভিনিগার, ভার্জিন কোকোনাট অয়েল, কোল্ড প্রেসড সিসেমি অয়েল, কাউ ঘি, রিয়েল অ্যাকটিভ ১০০% টেন্ডার কোকোনাট ওয়াটার-সহ একাধিক পণ্যের বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। অভিযোগ, ‘১০০% পিওর’ বা ‘১০০% ন্যাচারাল’-এর মতো দাবি ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে। পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশের বৈধতাকেই আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে ডাবর।