সকলেই জানেন যে, দু’টি ক্লাবকে ছাড়াই চলছে এবারের কলকাতা ফুটবল লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশন। বাংলায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের যে প্রভাব ফুটবলে পড়েছে, তার ফলশ্রুতিতে এবারের প্রিমিয়ারে দল নামাতে পারেনি শ্রীভূমি এফসি ও ডায়মন্ড হারবার এফসি। প্রথম ম্যাচটি ওয়াকওভার দিলেও কোনোভাবে দল গড়ে বাকি ম্যাচগুলি খেলছে পূর্বতন ক্রীড়ামন্ত্রীর ক্লাব হিসাবে পরিচিত সুরুচি সংঘ।

কিন্তু সকলের অলক্ষ্যে এবার লিগের প্রথম ডিভিশনে দল নামাতে পারছে না বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি। হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্রীড়া ও যুবকল্যান দপ্তরের অধীনস্থ বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি এবারের প্রথম ডিভিশনে এখনও পর্যন্ত প্রথম তিনটি ম্যাচে ওয়াকওভার দিয়েছে। পরের ম্যাচগুলি যে তারা খেলবে এমন সম্ভবনা কম।
গত মরসুমেই স্টেট ইউথ লিগের তিনটি বয়সভিত্তিক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিরল কৃতিত্ব গড়েছে বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি। তাদের সর্বাপেক্ষা সিনিয়র দলটি কলকাতা ফুটবল লিগের প্রথম ডিভিশনে খেলে, যেখান থেকে তাদের প্রমোশন বা রেলিগেশন কোনোটাই নেই। হালে তনবীর দে-র মতো প্রতিভাবান বাঙালি স্ট্রাইকার উঠে এসেছে সেখান থেকে, যিনি এবার মাত্র ১৮ বছর বয়সেই নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র সিনিয়র দলে সুযোগ করে নিয়েছেন। এহেন বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমির লিগে না খেলার পিছনে শোনা যাচ্ছে আর্থিক সংকটের কথা। ইতিমধ্যেই সব মিলিয়ে তাদের দু’কোটি টাকার বেশী দেনা হয়ে গেছে। বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে নতুন সরকার, এই অ্যাকাডেমিটিতে আর্থিক সহায়তা বন্ধ রেখেছে। ফলে বাজারে ধার শোধ করা তো দূরের কথা, অ্যাকাডেমির দৈনন্দিন কার্যকলাপ চালানো দুরূহ হয়ে পড়ছে। খড়দহের বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে, এখনও অ্যাকাডেমিটির বয়সভিত্তিক যুব দলগুলি অনুশীলন করলেও সেটাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা।
বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন জানিয়েছেন, রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীকে অ্যাকাডেমির এই সংকটের ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি সংশ্লিষ্ট মহল থেকে। তিনি জানলে হয়তো কিছু সমাধান করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তাঁরা। আবার অনেকে বলছেন, পূর্বতন শাসক ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি এখনও এই অ্যাকাডেমিটি নিয়ন্ত্রণ করছে। যে ঘুঘুর বাসা ভাঙতে পরিকল্পিতভাবেই আর্থিক সহায়তা বন্ধ রেখেছে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তর। অনেকে সন্দেহ করছেন, আগের সরকারের তৈরি করা এই বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি চালু রাখা নিয়ে এই সরকার আদৌ আগ্রহী তো! তবে যার যাই মতামত হোক না কেন, সকলেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী ড: ইন্দ্রনীল খাঁ-র দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন যাতে বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমির কার্যকলাপ স্বাভাবিক হয়।