New Delhi, Oct 13 (ANI): Prime Minister Narendra Modi participates in the Bloomberg New Economy Forum, in New Delhi on Tuesday. (Narendra Modi Photo Gallery/ANI Photo)
নয়াদিল্লি: ‘‘আমরা কারও ক্ষতি করে এগোই না। বিশ্বের সঙ্গে, বিশ্বের জন্যই আমাদের বৃদ্ধি।’’ মঙ্গলবার ব্লুমবার্গ নিউ ইকনমি ফোরামের মঞ্চ থেকে এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো, স্টার্টআপের প্রসার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাঁর দাবি, উদ্ভাবনের সুযোগ এখন দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বলে উল্লেখ করে মোদী বলেন, দেশের ভাষাগত বৈচিত্র এবং সংবাদমাধ্যমের ব্যাপক উপস্থিতিই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সহাবস্থানের পরিচয়। তাঁর দাবি, ভারতে ১০০-র বেশি ভাষা, প্রায় ৮০ হাজার নথিভুক্ত সংবাদপত্র ও সাময়িকী এবং ১০০০-র বেশি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে ভারতীয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটির বেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিজিটাল ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র বোঝাতে ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উদাহরণ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশি অতিথিদের এই ব্যবস্থা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ দেশে রাস্তার এক ছোট দোকানদার এবং বড় গাড়ির শোরুম—দু’পক্ষই একই ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে। মোদীর কথায়, ‘‘এটাই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির শক্তি।’’

স্টার্টআপ ক্ষেত্রেও ভারতের অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের আগে দেশে স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল কয়েকশো। বর্তমানে তা বেড়ে আড়াই লক্ষ ছাড়িয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক ছোট শহর ও মফস্সল থেকে উঠে এসেছে। পাশাপাশি, ৪৫ শতাংশ স্টার্টআপের ডিরেক্টর বা অংশীদারদের মধ্যে অন্তত এক জন মহিলা রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার কথাও বলেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, অন্য দেশগুলিকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করছে ভারত। কোভিডের সময় তৈরি কোউইন প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেটিকে ওপেন সোর্স ব্যবস্থা হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল।
প্রযুক্তির সাহায্যে সরকারি অনুদান সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মোদীর দাবি, এতে দুর্নীতি কমেছে এবং সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পথ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, উদ্ভাবনের সুফল যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে, তার প্রভাবও তত বাড়বে।