সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ম্যালেরিয়া ডেঙ্গুর মরশুমে এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য দফতরের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রেন ইটিং অ্যামিবা। কেরালায় ইতিমধ্যেই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এই রোগ, আক্রান্তের হদিশ বাংলাতেও। এই আবহে এক মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের।
গতবছর ও চলতি বছরের শুরুর দিকে এ রাজ্যেও মিলেছিল অ্যামিবা আক্রান্তের হদিশ। জানুয়ারির দিকে রাজ্যে ২১ জন অ্যামিবা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। ২১ জন আক্রান্তের মধ্যে ১৪ জন ভর্তি ছিলেন মল্লিকবাজারের এক বেসরকারি হাসপাতালে। এই ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়। গতবছর নভেম্বর নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এক অ্যামিবা আক্রান্ত রোগী। এখন এই মুহূর্তে এই ব্রেন ইটিং অ্যামিবাকে নিয়ে উদ্বেগ যখন চরমে উঠেছে তখন স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হল এই অ্যা মিবা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ এখনই নেই বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্যর দফতর।

এর পাশাপাশি রাজ্যের হাসপাতালগুলিকেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কেরালার। কেরালায় মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬৯, এই সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। এখনও অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।কোঝিকোড়, মালাপ্পুরমে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন এই ব্রেন ইটিং অ্যামিবা স্নায়ুতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়। নোংরা পুকুর, অপরিচ্ছন্ন সুইমিং পুলে এদের বংশ বৃদ্ধি ঘটে। মূলত স্নান করার সময় নাক মুখ দিয়ে এই অ্যামিবা শরীরে ঢোকে। যে ব্যক্তি এই অ্যামিবা দ্বারা আক্রান্ত হন কয়েকদিনে মধ্যেই এই অ্যামিবা মস্তিষ্কের কোষ খেতে শুরু করে। যার জেরে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে মারাত্মক চাপ পড়ে। মাত্র ৫-১০ দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়ে যে আক্রান্তের মৃত্যু ঘটে কিছু বুঝে ওঠার আগেই। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় তেমন কোন উপসর্গ নেই এই রোগের, শুধু রোগী অসংলগ্ন আচরণ করেন ও চেতনা হারান জ্বর খিঁচুনি হয় মাঝেমধ্যে।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন কেরালায় এই মুহূর্তে প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিংগোএনসেফালাইটিস বা প্যাম এবং রাজ্যে গ্র্যানুলোমেটাস অ্যামিবিক এনসেফালাইটিসের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। ১৯৭১ সালে ভারতে প্রথমবার ব্রেন ইটিং অ্যামিবার আক্রান্তের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। ২০১৬ সালে কেরালায় প্রথমবার এই রোগ ধরা পড়ে। এই মুহূর্তে কেরালার স্বাস্থ্য মন্ত্রী নোংরা, অপরিষ্কার পুকুরে স্নান, কুয়োর জল পান, স্নান করায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। অপরিষ্কার পুকুরে সাঁতার কাটা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রতিটি সুইমিং পুল পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক, কুয়ো পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ঘিলুখেকো অ্যামিবার সংক্রমণের উপসর্গ দেখা গেলে, তড়িঘড়ি যথাযথ চিকিৎসার আওতায় আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।