মাম্পি রায়, সাংবাদিক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর নিয়ে প্রায়ই সরব হতে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসআইআরের পিছনে ‘জঘন্য ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গত পরশুদিন ড্রাফ্ট লিস্ট বের করেছে। কোটি কোটি মানুষের নাম সরিয়ে কী নিজেদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব ?”

“৫৪ লক্ষ নাম বিনা কারণে বাদ দিয়েছে। বেআইনি, অনৈতিকভাবে নামগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। মহিলাদেরও টার্গেট করা হয়েছে। যে মহিলারা বিয়ে করে পদবী পাল্টে শ্বশুরবাড়ি গেছেন। তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এটা নির্বাচন কমিশনের বড় ব্লান্ডার। বিজেপির স্বার্থে মানুষকে নিয়ে খেলা করেছে ওরা। ওরা ভাবছে ব্ল্যাক ম্যাজিক করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেবে। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহারেও একই জিনিস করেছে। কেউ ধরতে পারেনি। ফাইনাল লিস্ট জারি করেই ইলেকশন ঘোষণা করে দিয়েছিল কমিশন। তাই কেউ সেই ষড়যন্ত্র ধরার সুযোগ পায়নি। এখানেও এটাই প্ল্যান করছে এরা।“
একটি তালিকা দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই তালিকা ডিইও, ডিএম, ইআরও বা বিএলআরওরা ক্লিয়ার করেছে। কিন্তু শেষে রয়েছে মাইক্রো অবসার্ভার। তারা বিজেপির দলদাস। তারা ক্রস করে দিলেই নামগুলো ফেরত এসে যাচ্ছে। অনেককে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। অনেককেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। জঘন্য ষড়যন্ত্র। নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু ভোটের আগেই ইলেকশন কমিশন অর্ধেক ভোটারের ভোট কেটে নিচ্ছে। এর কৈফিয়ত তাদের দিতে হবে। শুধু বাংলায় মাইক্রো অবজার্ভার কেন? বিহার, আসাম, নাগাল্যান্ডে নয় কেন?“
ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন এসআইআরের নোটিস পাওয়ার পর আজ পর্যন্ত ৮৪ জন মারা গেছেন। ৪ জন সুইসাইড করতে গিয়েছিলেন। ১৭ জনের ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। সংখ্যাটা মোট ১০৫। এর দায় নিতে হবে নির্বাচন কমিশন, বিজেপি, দুর্যোধন-দুঃশাসনদের। এতগুলো জীবন তো বৃথা চলে যাবে না। “
বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও খানিকটা সহানুভূতির সুরে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “আমরা শুনেছি নির্বাচন কমিশনারকেও ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। কমিশনকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু সবাইকেই সংবিধান মেনে চলতে হয়। ওয়ান নেশন, ওয়ান পার্টি হয় না। কোনও একটা পার্টি থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে না। এটা অবৈধ। এসআইআরের এমন নিয়ম নেই। জোর করে করলেও এটি অবৈধ। মাইক্রো অবজার্ভার আপনাকে অর্ডার দিলেও আপনি মানতে বাধ্য নন। কেউ ভয় পাবেন না। আইন মেনে কাজ করুন। নিজেরা বিএলও, ডিএম, ইআরও অফিসে বলুন আমার নাম ওঠেনি, নিজেদের নাম তুলুন। শুনানি পেলে বলবেন আমার ডক্যুমেন্টের রশিদ দিন।“
অমর্ত্য সেনের নাম বাদ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ এরা নোবেলজয়ীর নাম বাদ দিয়েছে। আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকলে, তার নামও বাদ দিয়ে দিত।“