সুপ্রিয় বসাক,নিজস্ব সংবাদদাতা:মহালয়ার সকালে ঢাকের বোলে পুজোর আবহে মাতল ধূপগুড়ি শহর।ঢাকিদের মুখে হাসি ফোটাতে মহালয়ার দিন তাঁদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আবোল তাবোল’।সংস্থার এই উদ্যোগ অষ্টম বছরে পদার্পণ করল।এবার ধূপগুড়ি মহকুমার শহর ও গ্রামীণ এলাকার প্রায় ২৫০ জন ঢাকির হাতে পুজোর উপহার হিসেবে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।পাশাপাশি গজলডোবায় হস্তিশাবক উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া দলটিকেও সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ময়দান থেকে ঢাকিদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে।দুই শতাধিক ঢাকের সম্মিলিত বোলে শহর জুড়ে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে ।এদিনের অনুষ্ঠানে সম্প্রতি গজলডোবায় হস্তিশাবক উদ্ধারে যুক্ত দলের উপস্থিতি।পাঁচজন মৎসজীবি উত্তাল তিস্তা নদীতে নেমে নিজেদের জীবন বাজি রেখে হস্তি শাবককে উদ্ধার করেছিলেন।এদিন আবোল তাবোল তাঁদের বিশেষ সম্মাননা জানায়।তাঁদের হাত দিয়েই ঢাকিদের হাতে পুজোর উপহার তুলে দেওয়া হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,অনুষ্ঠানে কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরলসভাবে পরিষেবা দিয়ে চলা চিকিৎসকদের হাত দিয়েই ঢাকিদের উপহার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

নতুন পোশাক পেয়ে খুশি ঢাকবাদক প্রাণতোষ হাজরা। তিনি বলেন,“ভীষণ ভালো লাগছে।প্রতিবছর এই সংগঠনের তরফে আমাদের নতুন বস্ত্র দেওয়া হয়। এতে পুজোর আনন্দ আরও বেড়ে যায়।” সংস্থার সম্পাদক অনিরুদ্ধ দাশগুপ্ত বলেন,“পুজোর দিনগুলিতে ঢাকিরা অন্যদের আনন্দ দিতে ব্যস্ত থাকেন। পুজো শেষ হওয়ার পর হয়তো তাঁরা নিজেদের জন্য নতুন পোশাক কেনার সুযোগ পান। ফলে পুজোর দিনগুলিতে নতুন জামা পরার আনন্দ থেকে তাঁরা বঞ্চিত হন।আমরা চাই,অন্য সবার মতো ঢাকিরাও নতুন পোশাক পরে পুজোর আনন্দে শামিল হতে পারেন।”
সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগে সমাজের বহু সাধারণ মানুষ ও সমাজসেবী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।ঢাকিদের পাশাপাশি মহাপঞ্চমী পর্যন্ত এলাকার বহু নারীর হাতেও নতুন শাড়ি তুলে দেওয়ার কর্মসূচি চলছে।অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল।