বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : সন্দেশখালির পর এবার গোসাবা! পাঠানখালির পুকুরে মাছ ধরার জালে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র, চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে।
সন্দেশখালির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা এলাকায় উদ্ধার হল আগ্নেয়াস্ত্র। গোসাবার পাঠানখালি এলাকায় একটি পুকুরে মাছ ধরার সময় জালে উঠে আসে আগ্নেয়াস্ত্র। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গোসাবা থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ঘিরে শুরু হয়েছে তদন্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঠানখালি এলাকার একটি পুকুরে কয়েকজন মৎস্যজীবী মাছ ধরছিলেন। সেই সময় আচমকাই মাছ ধরার জালে ভারী কিছু আটকে যায়। প্রথমে তাঁরা সেটিকে সাধারণ লোহার বস্তু বলে মনে করলেও পরে জাল টেনে তুলতেই দেখা যায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র সদৃশ বস্তু। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। আতঙ্ক ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গোসাবা থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই পুকুরের জলে অস্ত্রটি পড়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে ওই অস্ত্র সেখানে এল, কারা তা ফেলে গিয়েছিল, তার সঙ্গে কোনও দুষ্কৃতীচক্র বা অপরাধমূলক ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুধু একটি পুকুরেই থেমে থাকছে না তদন্ত। আশেপাশের আরও একাধিক পুকুরে অস্ত্র মজুত রয়েছে কি না, সেই সন্দেহে তল্লাশি শুরু করেছে গোসাবা থানার পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশেষ বাহিনীকেও কাজে লাগানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই সন্দেশখালি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এবার গোসাবার পাঠানখালিতে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সুন্দরবন এলাকার নিরাপত্তা এবং অপরাধচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে। ঘটনার পূর্ণ তদন্তের পরই সামনে আসবে এর পিছনের প্রকৃত রহস্য।