মাম্পি রায়, সাংবাদিক : জল্পনা ছিলই। সোমবার বিকেলে তাতে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ল। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal)। এর আগে তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) পদে ছিলেন। বিদায়ী মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে (Dushmanta Nariala) দিল্লিতে রাজ্যের রেসিডেন্ট কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় এই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা জারি করে নবান্নের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর।

দিনভর নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের আবহেই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল সিদ্ধান্ত। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সোমবার বিভিন্ন দফতরের সচিব, জেলাশাসক ও পুলিশকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন মনোজ আগরওয়াল। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তাঁকেই। বৈঠক শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি ঘোষণা সামনে আসে।
সরকার বদলের পর থেকেই প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন ছিল, শীর্ষস্তরে বড় রদবদল অনিবার্য। মুখ্যসচিব পদে মনোজের নামই সবচেয়ে বেশি ঘুরছিল আমলাদের অন্দরমহলে। সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আমলাও তাঁর সঙ্গে সিইও দফতরে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন বলে সূত্রের দাবি।
কানপুর আইআইটির প্রাক্তনী মনোজ ১৯৯০ ব্যাচের আইএএস অফিসার। বর্তমানে তিনিই রাজ্যের সবচেয়ে সিনিয়র আমলা। আগামী জুলাইয়ে তাঁর অবসরের সময়সীমা রয়েছে। যদিও রাজ্য সরকার চাইলে কেন্দ্রের কাছে তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে পারে। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে খাদ্য, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, কর্মিবর্গ, অগ্নিনির্বাপন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। খাদ্যসচিব থাকাকালীন ডিজিটাল রেশন কার্ড প্রকল্প চালু এবং আধার সংযুক্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করে প্রশাসনিক মহল।
আবার রাজ্য সড়ক উন্নয়ন নিগমের দায়িত্বে থাকাকালীন বিশ্বব্যাঙ্ক-সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে রাজ্য সড়কের উন্নয়নের পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। এ প্রসঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মনোজের বক্তব্য, “আমার সময়ে যে সব রাজ্য সড়কের কাজ হয়েছিল, একটিতেও গরমিল পাওয়া যায়নি।”
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনাতেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর (Subrata Gupta) সঙ্গে সমন্বয় রেখে অবাধ ও তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মনোজ আগরওয়াল। তবে সেই সময় সরকারি কর্মচারীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে তাঁর আক্ষেপও প্রকাশ্যে এসেছিল।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghosh) কটাক্ষ করে বলেন, “বাংলার তথাকথিত নিরপেক্ষ আম্পায়ার এখন বিজেপি সরকারের শীর্ষ আমলা হিসেবে পুরস্কৃত হলেন!” সবমিলিয়ে মুখ্যসচিব পদে মনোজ আগরওয়ালের এই নিয়োগ ঘিরে চরমে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা।