ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। সোমবার গভীর রাতে তাকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর বিশেষ পিএমএলএ আদালতে তোলা হয় তাঁকে।

আদালতে ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, অয়ন শীলের বক্তব্য দেখুন। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানকে ৪০ জনের নাম সুপারিশ করা হয়। আরও একাধিক ব্যক্তির নাম সুপারিশ করা হয়। মোট ১৫০জনের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। পরিবারের নামে সম্পত্তি গচ্ছিত ছিল। একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টেও প্রচুর টাকা গিয়েছে। ধাবার অ্যাকাউন্টেও একই ঘটনা। কোভিডের সময় ১ কোটির বেশি টাকা গিয়েছে চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে। করোনার বিধিনিষেধ লাগু ছিল ওই সময়। ধাবাটি করোনার সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ২ কোটির বেশি টাকা যায়। আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই। এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে প্রভাব কমেছে। তবুও তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা থেকে যায়। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হতে পারে। সত্য চাপা থেকে যাবে। সমস্ত লেনদেন যা হয়েছে প্রত্যেকটির এনটিটি আলাদা। প্রপার লিগ্যাল লিঙ্ক ছাড়া ট্রানজাকশন হয়। টাকা ও বাড়ির বিনিময়ে চাকরির সুপারিশ করতেন তিনি। ১০ দিনের হেফাজত দেওয়া হোক। কেস ডায়ারিও আমাদের কাছে আছে। শুধু এটাই নয়, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সাথে যোগাযোগ ছিল, যেখানে অয়ন শীল নামও মিলেছে। ১৫টি কোম্পানিতে টাকা গিয়েছে। এখানে একাধিক প্রভাবশালী ষড়যন্ত্রকারী আছে। পরিবারের মধ্যে বেআইনি টাকা লেনদেনের হদিশও পাওয়া গেছে।
অয়ন শীল, নিতাই দত্ত ৪০জন প্রার্থীকে সুজিত বসু রেকমেন্ড করেছিলেন। ১৫০ জন দক্ষিণ দমদম চাকরি পায়। বেআইনি লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। কখনও ৩ কোটি ৬৭ লক্ষ, কখনও ১ কোটি ২ লক্ষ, কখনও আবার ১.৬ কোটি, কখনও ১.৮ কোটি টাকা।
এমনকি করোনাকালে যখন সমস্ত রেস্তোরাঁ বন্ধ, তখন ওই চাইনিস রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। কখনও ৬৮ লক্ষ, কখনও আবার ১.২৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।
স্বভূমি প্রাইভেট প্রজেক্টের অ্যাকাউন্টেও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
২০১৪ সালে abs infoznone
২০১৬ সালে রিয়েলএস্টেড কোম্পানি
৬৭% ও ১৬% শেয়ার রয়েছে সুজিতের
ইডির দাবি, এহেন প্রভাবশালী ব্যক্তি মানুষকে প্রভাবিত করতেই পারেন।
সুজিত বসুর আইনজীবী অমলেশ সরকার জানান, সিবিআইয়ের চার্জশিটে সুজিত বসুর নাম নেই। আপনি চার্জশিট দেখুন। ৩০ জুন ২০২৪ চার্জশিট দেওয়া হয়। ২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। চেয়ারম্যান ও অয়ন শীলের নাম দেওয়া ছিল তাতে। অতিরিক্ত চার্জশিটে একজন লোকাল বডির ডিরেক্টরের নাম উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষের পর যে চার্জশিট দেওয়া হয়। তাতেও সুজিতের নাম নেই। তাহলে সিবিআইয়ের তদন্তের ভিত্তিতে কি করে বলা হচ্ছে ? হাইকোর্টের নির্দেশে আমি হাজিরাও দিয়েছিলাম।
সুজিত বসুর আইনজীবী আরও বলেন, পিএমএলএ একটি স্ট্যাটুয়েটারি হতে হয়। আগে কোনও অফেন্স থাকতে হয়। কোনও অপরাধের পর পুলিশ যতদূর তদন্ত করেছে সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। পিএমএলএ একজন পাবলিক অফিসার। তাঁদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কিন্তু পুলিশ না হলে কীভাবে গ্রেফতার করতে পারে? যখন অফেন্স এর যথার্থ কারণ থাকে তখন এই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায়। তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না।
স্টেটমেন্ট-এর ভিত্তিতে ২০২২ সালে ইসিআইআর দায়ের হল। তারপর বিভিন্ন বছর উল্লেখ করে এখন ২০২৬ এ গ্রেফতার কেন? এতদিনে কোনও মামলার ট্রায়াল হয়েছে? কোনও তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত এগোনোর জন্য গ্রেফতার করতে পারে? ১ মে সুজিত বসুকে ডাকা হয়। আবার ১১ মে ডাকা হয়। তাঁরা ৫০টি নোটিশ দিয়েছে। অথচ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়েই গ্রেফতার করে নিল?
পাল্টা ইডির আইনজীবী জানান, প্রতিটি গ্রেফতারির দুটি দিক থাকে। তদন্তেরও তাই। একপ্রকার তদন্ত গ্রেফতারির, অন্যপ্রকার গ্রেফতারির পরের তদন্ত। এসএসসির তদন্ত চলাকালীন এই দুর্নীতি উঠে আসে। একটি দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েই আরও একটি দুর্নীতি উঠে আসে । ২০২২ সালের তদন্তে কিছু পাওয়া গেলে সেটা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে আবার তো করতে হবে। এখন ভিত রেডি করে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধুমাত্র সমন পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তদন্ত হয় না। অভিযুক্ত কখনও তদন্তকারী সংস্থা বেছে নিতে পারে না।
সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায় স্থগিত করে দিয়েছেন বিচারক।