২০ জুলাই যন্তর মন্তর চত্বরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের রেশ এখনও কাটেনি। সেই ঘটনার রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই এবার সামনে এল আহত দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের পরিবারের অভিজ্ঞতা।

তাঁদের দাবি, কর্তব্যরত অবস্থায় রক্তাক্ত হয়ে বাড়ি ফেরা পুলিশকর্মীদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যেরা।
সংঘর্ষে আহত হওয়া দিল্লি পুলিশের এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি)-র স্ত্রী জানান, ওই রাতের অভিজ্ঞতা তাঁদের পরিবারের কাছে আজও দুঃস্বপ্নের মতো। তাঁর কথায়, “২০ জুলাই গভীর রাতে আহত অবস্থায় স্বামী বাড়ি ফিরেছিলেন। তাঁকে ওই অবস্থায় দেখে আমি এবং আমাদের দু’বছরের মেয়ে ভেঙে পড়েছিলাম। সেই মুহূর্ত ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” তিনি জানান, আহত পুলিশকর্মীদের আরও কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে সামনে এসেছেন।

একই ঘটনার আর এক প্রত্যক্ষ সাক্ষী আহত এক সাব-ইনস্পেক্টরের (এসআই) মেয়ে। তিনি জানান, তাঁর বাবা ভারতীয় নৌবাহিনীর মেরিন কমান্ডো হিসেবে ১৫ বছর কাজ করার পর দিল্লি পুলিশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ঘটনার দিন তিনি যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থলে ব্যারিকেডের সামনে মোতায়েন ছিলেন। তাঁর দাবি, আন্দোলন শুরুর কয়েক দিন পর থেকেই তাঁর বাবা বাড়ি ফিরে বলতেন, ছাত্রদের পাশাপাশি কিছু সমাজবিরোধীও বিক্ষোভে মিশে পড়েছে।
তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভস্থলের মঞ্চের কাছে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা তাঁর বাবাকে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা তিনি অচেতন ছিলেন বলে দাবি পরিবারের। রাতে সহকর্মীরা তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দিলে তাঁর রক্তমাখা পোশাক দেখে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
আহত এসআইয়ের মেয়ের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বাবাকে ‘অপরাধী’ বলে কটাক্ষ করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, যাঁদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে, তাঁরাই আবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছেন। এর পরই বাবার জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনিও অন্য পুলিশ পরিবারগুলির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আইনজীবীর আশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে তাঁদেরও সমান অধিকার রয়েছে এবং আদালতের উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা আছে।

আহত আর এক পুলিশকর্মীর পরিবারের সদস্যের দাবি, আন্দোলনটি শেষ পর্যন্ত আর কেবল ছাত্রদের বিক্ষোভ ছিল না। তাঁর অভিযোগ, কিছু দুষ্কৃতী পরিকল্পিত ভাবে আন্দোলনে ঢুকে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে এবং সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে। তবে প্রকৃত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে দোষীদেরই আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।