সাদা ধাতুর দরে বড়সড় পতন। বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ কী ?
আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: বছরের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল রুপোর দর। জানুয়ারি মাসে প্রায় ৬০ শতাংশ উত্থানের পর আন্তর্জাতিক বাজারে আউন্স প্রতি রুপোর দাম ছুঁয়েছিল ১২১ ডলার। দেশীয় বাজারে কেজি প্রতি রুপোর মূল্য উঠে গিয়েছিল ৪ লক্ষ টাকার উপরে। বহু বিনিয়োগকারী মনে করছিলেন যে ‘অপ্রতিরোধ্য’ হারে এগিয়ে যাচ্ছে রুপো। কিন্তু শুক্রবার সেই উচ্ছ্বাসে আচমকাই ছেদ পড়ল। একদিনেই বিশ্ববাজারে রুপোর দাম পড়ে গেল ৭ থেকে ৮ শতাংশ। ভারতের বাজারেও ৪ লক্ষ টাকার গণ্ডির নীচে নেমে এল সাদা ধাতু।

এই পতন কি তবে ‘সিলভার সুপারসাইকেল’-এর শেষ ? নাকি অতিরিক্ত জল্পনার পর স্বাভাবিক সংশোধন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুক্রবারের রুপোর দামে যে ধাক্কা তা কোনও একটি কারণে নয়—বরং তিনটি শক্তিশালী প্রবণতা কাজ করেছে এক্ষেত্রে।
সবচেয়ে বড় ট্রিগার এসেছে আমেরিকার রাজনীতি থেকে। খবর ছড়ায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজ়ার্ভের চেয়ারম্যান পদে জেরোম পাওয়েলের বদলে কেভিন ওয়ার্শকে বসাতে পারেন। ওয়ার্শকে ওয়াল স্ট্রিট চেনে ‘হক’ হিসেবে—যিনি সুদের হার কড়া রাখতে এবং বাজারে টাকা ছড়ানো কমাতে আগ্রহী। এই সম্ভাবনাতেই মার্কিন ট্রেজ়ারি ইয়িল্ড বেড়েছে, শক্তিশালী হয়েছে ডলার। ডলার চড়লে স্বভাবতই চাপ পড়ে রুপোর মতো ধাতুর মতো ডলারে লেনদেন হওয়া পণ্যে।
এর পাশাপাশি, প্রযুক্তি শেয়ারের ধসও রুপোর মূল্য পতনে ঘি ঢেলেছে। মাইক্রোসফটের শেয়ার একদিনে প্রায় ১২ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় নাসডাক জুড়ে বিক্রির ঝড় উঠেছে। বাজারে শেয়ারের দাম সংকুচিত হলে বড় বিনিয়োগকারীরা দ্রুত নগদ তুলতে চান। সেই সময় জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি লাভজনক সম্পদ রুপো ‘ক্যাশ মেশিন’-এ পরিণত হয়েছিল।
তৃতীয় এবং সম্ভবত সবচেয়ে বাস্তব কারণ—লাভ তুলে নেওয়া। টানা ঊর্ধ্বমুখী দৌড়ে রুপো কার্যত মৌলিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। প্রযুক্তিগত সূচক আরএসআই দীর্ঘদিন ধরেই ‘চরম ওভারবট’ সঙ্কেত দিচ্ছিল। ফলে সামান্য নেতিবাচক খবরই রুপোর বড়সড় বিক্রির কারণ হয়ে দাঁড়াল।
তবে এখানেই গল্প শেষ নয়। শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মতে, এই পতন ধস নয়—সংশোধন। স্বল্পমেয়াদে আগামী কয়েক সপ্তাহ রুপোর দামে অস্থিরতা থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ১০০ ডলার এবং দেশীয় বাজারে প্রায় ৩.৫৫ লক্ষ টাকা কেজিপ্রতি রুপোর দাম থাকতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে কিন্তু ছবিটা এখনও উজ্জ্বল। সৌরবিদ্যুৎ শিল্পে রুপোর ব্যবহার বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-য়ের উপর নির্ভর ডেটা সেন্টারগুলির জন্যও উচ্চ পরিবাহিতে সাহায্যকারী ধাতু হিসেবে রুপোর চাহিদা অটুট। তার উপর টানা ছয় বছর ধরে জোগান ঘাটতির বাজার। এর মধ্যে একদিনের দরপতনে নিশ্চয়ই খনি থেকে হঠাৎ রুপো বেরিয়ে আসবে না।
সবমিলিয়ে রুপোর উড়ান হয়তো কিছুটা বেশি ছিল। তাই পতনও তীব্র হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভিত এখনও অটুট। বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা একটাই—আতঙ্ক নয়, ধৈর্যই এখন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।