বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা:মহালয়ার পুণ্যলগ্নে চক্ষুদান। এক মায়ের হাতে প্রাণ পাচ্ছেন জগৎজননী। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি থেকে ক্যানিংয়ের মিত্র মহল ক্লাবে এসে প্রতিমা গড়ছেন দুই লড়াকু নারী। মা দিপালী সর্দার এবং তাঁর একমাত্র কন্যা লাকি সর্দার। মা-মেয়ের অনন্য যুগলবন্দিতে রূপ পাচ্ছেন জগৎজননী। শিল্পী দিপালী সর্দার জানান, বিগত ১৫ বছর ধরে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। সংসারের চাকা সচল রাখতে, পেটের ভাত জোগাড় করতেই মৃৎশিল্পকেই আঁকড়ে ধরেছেন তিনি।

মায়ের এই লড়াইয়ে শক্ত হাতে হাল ধরেছেন মেয়ে লাকি। লাকি সর্দার নিজে একজন আইনের ছাত্রী। পড়াশোনার ফাঁকেই মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সমান তালে প্রতিমা গড়ার কাজ করে চলেছেন। শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই অপূর্ব মেলবন্ধনে চলতি বছরে মা-মেয়ে জুটি মোট ১০টি প্রতিমা তৈরির বরাত পেয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম ক্যানিং মিত্র মহল ক্লাবের দুর্গা প্রতিমা। আজ মহালয়ার দিনে সেই প্রতিমারই চক্ষুদান সম্পন্ন করলেন দিপালী দেবী।

এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছে ক্যানিং মিত্র মহল ক্লাবের মহিলা সদস্যরা। তাঁদের কথায়, “নারীরা আজ কোনও ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই। একজন নারীই আর এক মহাশক্তি রূপী নারীকে সৃষ্টি করছেন, এর চেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে! সুন্দরবনের এই দুই লড়াকু শিল্পীকে নিজেদের মণ্ডপে পেয়ে আমরা গর্বিত।” লিঙ্গবৈষম্য আর সামাজিক প্রতিকূলতার দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সুন্দরবনের এই মা-মেয়ে প্রমাণ করে দিলেন — নারীর হাত যেমন সংসার সামলাতে পারে, তেমনই পারে মহাশক্তিকে রূপ দিতে। ক্যানিং মিত্র মহল ক্লাবের মণ্ডপে তৈরি হওয়া এই মাতৃপ্রতিমা তাই শুধু মাটির প্রতিমা নয়, একবিংশ শতাব্দীর স্বাধীন, স্বাবলম্বী ও লড়াকু নারীর প্রতীক। এবার পুজোয় এই মণ্ডপে এলে আপনি শুধু দুর্গা প্রতিমা দেখবেন না, অনুভব করবেন সুন্দরবনের দুই ‘জীবন্ত দুর্গা’র অপরাজিত রূপকথা।