আরপ্লাস ডিজিটাল ডেস্ক : মূল্যবান ধাতুর উপর বিনিয়োগ করে লাভ ঘরে তোলার যে ধারণা ছিল। ২০২৬ সালে তা অনেকটাই জটিল। ঐতিহাসিক ২০২৫ সালের পর সোনা ৬০ শতাংশের বেশি রিটার্ন দিয়েছে, রুপো ১৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে উচ্চমূল্য এবং ব্যাপক ব্যবসায়িক চাহিদার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।

বিশ্বজোড়া অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় সোনা রিজার্ভ সম্পদ হিসেবেই রয়ে গিয়েছে।
গোল্ডম্যান স্যাকস ২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা ৪,৯০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৪০০ ডলার প্রতি আউন্স করেছে। অন্যদিকে জেপি মরগ্যান ২০২৬ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের গড়ে ৫,০৫৫ ডলার প্রতি আউন্স হবে বলে আশা করছে। ভারতে পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছর শেষ নাগাদ প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.৭৫ লক্ষ থেকে ১.৯৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ক্রয়- প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা একইরকমভাবে বজায় রয়েছে। নতুন উঠে আসা অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো মার্কিন ডলারের মতো ঐতিহ্যবাহী রিজার্ভ সম্পদ থেকে সরে এসে নিত্যনতুন বৈচিত্র খুঁজছে।
মুদ্রানীতি – ২০২৬ সালে ফেড-এর প্রত্যাশিত সুদের হার কমানো (আনুমানিক ৫০-৭৫ বেসিস পয়েন্ট) সোনার মতো সম্পদের জন্য অনুকূল।
ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি- মধ্যপ্রাচ্যে এবং মার্কিন শুল্ক আরোপের মতো হুমকি সহ এমন বাণিজ্য উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মূল্যের লক্ষ্যমাত্রা- ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারতের অভ্যন্তরীন পূর্বাভাস বলছে, প্রতি কেজি রুপোর দাম ২.৭৫ লক্ষ থেকে ৪.৬০ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন যে, সরবরাহের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে রুপোর দাম ১০০ ডলার প্রতি আউন্স বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।
দ্বিগুণ চাহিদার সুবিধা- সৌরশক্তি চালিত ব্যাটারি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য রুপো অপরিহার্য। যা অন্যান্য ইঞ্জিন চালিত গাড়ির চেয়ে ৬৭-৭৯ শতাংশ বেশি রুপো ব্যবহার করে।

এআই পরিকাঠামো- ডেটা সেন্টারগুলো নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে রুপোভিত্তিক উপাদানগুলোর মধ্যেও এআই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
সরবরাহের সংকট- বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে টানা ষষ্ঠ বছরের জন্য রুপো কাঠামোগত ঘাটতিতে থাকতে পারে। কারণ খনি থেকে যে রুপো সরবরাহ হচ্ছে, তা চাহিদার সাথে তাল মেলাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
নির্বাচিত বরাদ্দ করতে হবে- বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারসাম্যপূর্ণ ঝুঁকি নিতে পারেন। স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সোনায় ৫-১০ শতাংশ এবং কৌশলগতভাবে ১৫ শতাংশ রুপোয় বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোনা-রুপো অনুপাত- এই অনুপাত কমে ৫০ হয়েছে। করোনা মহামারির সময়ে এটি ১২৭-এ ছিল। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে রাখলে সোনার দর ভালো পাওয়া যাবে। রুপোর মূল্যবৃদ্ধির পর একে স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগ করাটাই নিরাপদ।
সোনা বা রুপো কেনার টাইতে সিলভার ইটিএফ বা গোল্ড বন্ড কেনাটাই নিরাপদ। কারণ এক্ষেত্রে সংরক্ষণের খরচ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাও এড়ানো যায়।
দাম কমলেই কিনুন- রেকর্ড দামের কারণে বিনিয়োগে উৎসাহ কমছে। বাজারের অস্থিরতা সামাল দেওয়ার জন্য কিস্তিতে (এসআইপি) বিনিয়োগের পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।