Business people-showing teamwork
অঙ্কিতা পাল, সাংবাদিক: বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাসিকে প্রকৃতির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তিনি হাসিকে প্রকৃতির সৌন্দর্য, শিশুর নিষ্পাপ আনন্দ এবং জীবনের এক সুন্দর অনুভূতি হিসেবে দেখতেন। হাসি এমন একটা জিনিস যা দিয়ে খুব সহজেই যে কোনও মানুষের মন জয় করা যায়। হাসি দেখে কেউ কেউ আবার প্রেমেও পড়ে যান। তবে এই হাসিই কিন্তু আপনার জীবনের সেরা ওষুধ। হাসির মাধ্যমে অসুস্থ ব্যক্তিও সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। লাফ থেরাপির কথা আমরা সকলেই জানি। হাসি মুখের উজ্বলতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যের পক্ষেও অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে বর্তমানে লাফ্টার ক্লাবের জনপ্রিয়তাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নানান সমীক্ষা থেকে হাসির একাধিক উপকারিতা সম্পর্কে জানা যায়। অজান্তেই হাসির মাধ্যমে আপনার শরীরে নানান ধরণের পরিবর্তন ঘটতে পারে। তবে, এই পরিবর্তনগুলো কিন্তু ক্ষতিকর না। আপনি কি হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়েন? হাসি শরীর ও মনের জন্য ভাল। মানসিক চাপ কমায়। হার্টের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে। চিকিৎসকেরা বলেন, হাসির মাধ্যমে মানসিক চাপ কমাতে পারলে হার্ট ভাল থাকে। রক্তচাপ ঠিক থাকে। এমনকি এও দেখা গিয়েছে, দিনে যদি ১০ মিনিটও কেউ মন খুলে হাসেন, তা হলে যে কোনও স্নায়বিক সমস্যা দূর হতে পারে। এখন চারদিকেই গজিয়ে উঠেছে লাফিং ক্লাব। সেখানে হাসির ব্যায়ামের পাশাপাশি প্রাণায়াম, ধ্যানও শেখানো হয়। প্রাণখোলা হাসিতেই অনেক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা প্রতিকারের চেষ্টা করা হয়। হাসির উপকারিতা অনেক। সবসময়ে গম্ভীর হয়ে না থেকে, হাসুন। জেনে নিন হাসির সুফল ঠিক কতটা।

প্রাণখোলা হাসি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা কমিয়ে দেয়। মানুষের জীবনে এখন হাজারটা চিন্তা। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে মনের উপর চাপ আরও দিন দিন বাড়ছে। সংসার ও পেশাগত জীবনে উদ্বেগের শেষ নেই। এমন পরিস্থিতিতে মন ভাল রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চিকিৎসকেরা বলেন, হাসলে স্ট্রেস হরমোন কমে যায়। বদলে সুখী হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। ফলে মানসিক চাপ স্বাভাবিক নিয়মেই কমে যায়।

হাসি এক ধরনের ব্যায়াম, যা শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ায়। শরীরের কোষ ও কলাগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। বিশেষ করে ফুসফুস ও হার্টে অক্সিজেন সরবরাহ হয়। ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিকঠাক হলে শ্বাসের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। পাশাপাশি সংক্রমণজনিত অসুখবিসুখও দূরে থাকে। হাসলে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও কমে। হাসলে হার্টে রক্ত ও অক্সিজেন চলাচল সঠিক নিয়মে হয়। হৃদ্পেশিগুলির ব্যায়ামও হবে। ফলে হার্টের রোগের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। রক্তচাপও থাকবে নিয়ন্ত্রণে। গবেষণা বলছে, হাসি পেশির শক্তি বাড়াতে পারে। গাঁটে গাঁটে ব্যথাবেদনা কমে, মানসিক চাপও কমে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, রোজ ১০ থেকে ১৫ মিনিট যদি আপনি হাসেন তা হলে ওজন কমে। কিন্তু অন্য উপকারগুলি পাওয়ার জন্য মুখে হাসি থাকা ভীষণ প্রয়োজন। আমরা যখন হাসি তখন শরীর থেকে এন্ডোর্ফিন নিঃসৃত হয়, যা ব্যক্তিকে আনন্দিত ও চাপমুক্ত রাখে। এর ফলে মন মেজাজও বেশ ফুরফুরে থাকে। হাসলে মানসিক শক্তি বাড়ে এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে।
নানান সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে যে, হাসার ফলে বয়স কম দেখায়। সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী মুখের হাসিই আপনার বয়স ৩ বছর কমিয়ে দিতে পারে। সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে কাউকে হাসতে দেখলে পর্যবেক্ষকের মস্তিষ্কের মিরর নিউরন সক্রিয় হয়, যার ফলে তার মধ্যেও হাসি সংক্রমিত হয় । যা সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।